সংলাপে খাওয়া-দাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াকে ছোটলোকি উল্লেখ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘এই সরকার ছোটলোক। ডিনার করার ছবি বাইরে দেখিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে এবং বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’
শনিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে মাটির ডাক নামে একটি সংগঠনের আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মান্না বলেন, ‘কী অদ্ভুত বিষয়, আমরা গণভবনে সংলাপ করছি, সেখানে কোনও সাংবাদিক নেই। তাহলে ছবি বের হলো কী করে? কোনও ছবি তো বাইরে যাওয়ার কথা না। ফেসবুকে ছবি গেল কী করে? ওদের মতলবই খারাপ! এটা একটা মতলবি সরকার। সংলাপ ডেকেছে, তার সঙ্গে বিভ্রান্ত করার জন্য এসব করছে।’
এর আগে মাওলানা ভাসানীর খাওয়ার ছবি বাইরে প্রকাশ করা হয়েছিল উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে? একবার মাওলানা ভাসানী গিয়েছিলেন, তাকে খাইয়ে দাইয়ে ছবি বাইরে দেখিয়েছেন। কীরকম ন্যাক্কারজনক অবস্থা। আমাদের যখন নৈশভোজে দাওয়াত করা হয়েছিল, আমরা বলেছিলাম ভোজসভার জন্য তো আমরা যাচ্ছি না। আমরা যাচ্ছি সংলাপ করতে। সাত দফা দিয়েছি, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দরকার, নাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’
মান্না আরও বলেন, ‘সংলাপ কোনও উৎসব নয়। কিন্তু আমরা তো এই কথা বলিনি যে তার বাসায় জলপানও করবো না। এরকম সম্পর্ক আমরা কখনও চাই না। পানি খাওয়াবে, চা খাওয়াবে, স্ন্যাক্স খাওয়াবে, কে মানা করছে? কিন্তু তারা স্ন্যাক্স, সঙ্গে স্যুপের ছবি দিয়ে ছড়িয়ে দিল কী বোঝাতে? এই নেতারা জীবনে খায়নি, খেতে গিয়েছিল গণভবনে? ছোটলোক! এই সরকারটা একটা ছোটলোকের সরকার। নাহলে এগুলো করতে পারে না। সবার ছবি দিয়ে বাইরে জনগণকে কী বুঝাতে চায়? এজন্য বলছি, আপনারা সবাই লড়াই করছেন একটা ছোটলোকের সঙ্গে, এটা বুঝেই আমাদের লড়াই করতে হবে।’
সংলাপে তেমন কোনও অর্জন নেই দাবি করে মান্না বলেন, ‘রাজনীতি মানেই হচ্ছে সবচেয়ে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে লড়াই করবেন এবং সেই অবস্থাকে অনুকূল করার চেষ্টা করবেন। আমাদের দেশ একটা বিরাট দুর্যোগের মধ্যে আছে এই সরকারের জন্য। সেখান থেকে মুক্তি পেতে আমাদের ধীরে ধীরে কৌশল করে এগুতে হবে। সেই কারণেই হয়তো সংলাপ আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু কেউ যদি মনে করে সংলাপ থেকে কিছু পেয়ে বিজয়ী হয়ে যাবো তাহলে সে ভুল করবে। সংলাপে সাত দফা নিয়ে কথা বলেছি আমরা। সেখানে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ রাজবন্দিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সংসদ বাতিল, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ সব বিষয়ে কথা বলেছি। আমরা সৌজন্য রেখে বিনয়ের সঙ্গে বলেছি। কিন্তু আমরা কথাই বলতে পারি নাই। উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, ঠিক আছে কথা বলতে দিলাম। কথা বলতে যখন দিলেন, তাহলে এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে জনসভার অনুমতি পাইনি কেন? কথা বলতে দেওয়ার বিষয়ে কয়েকদিন আগেও বলেছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নাই, আমি সেখানে একটা মঞ্চ তৈরি করে দেবো, প্রয়োজন হলে লোকজনও দেবো। অনেক ঘুরতে ঘুরতে আমরা সভার অনুমতি পেয়েছি। এটা অনেকে বলবে কত বড় অর্জন! জনসভা করা আমার জন্মগত অধিকার, উনি রুদ্ধ করে রেখেছেন।’
ঐক্যফ্রন্টের কয়েকটি দাবির সঙ্গে সংবিধানের সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘এইগুলো মেনে নেন, বলেন এখন থেকে কার্যকর হবে। আজ পারবেন? যদি না পারেন তাহলে কালকে আবার বসি? যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সাত দফার ওপর আলোচনা করে নিষ্পত্তি করা হোক। নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা যাবে না।’
‘সংলাপকে ফালতু বানাতে যাকে তাকে ডাকা হচ্ছে’ এমন অভিযোগ করে মান্না বলেন, ‘আপনারই উপদেষ্টা, তার সঙ্গে দিনে তিন থেকে চারবার দেখা হয়, তার সঙ্গে সংলাপ কিসের? আপনারই বিরোধী দলের নেতা, সংসদে দেখা হয়। তার সঙ্গে সংলাপ কী? আপনার ক্যাবিনেটের মন্ত্রী, তার সঙ্গে সংলাপ কিসের? এই সংলাপকে ছোট করার জন্য, ফালতু করার জন্য কাকে কাকে ডাকছেন আপনারা। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ করবো, আমি একাই যাবো। সব রং তামাশা করতে ক্ষমতায় বসে আছেন। আপনারা মনে করছেন, রং তামাশা একটা বুদ্ধিমানের কাজ। এসব ছাড়েন, না যদি ছাড়েন পথ একটাই আছে।’
সরকার গুলি করবে, আর সেই ভয়ে ঘরে ঢুকে যাবেন-সেই লোক তারা না উল্লেখ করে মান্না আরও বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নামবো, আন্দোলন করবো। তারা গুলি করবে, মানুষ মেরে ফেলবে এই ভয়ে আমরা ঘরে ঢুকে যাবো না। আমরা এমন আন্দোলন করবো, যারা গুলি চালায় সেই লোকগুলো গুলি চালাবে না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যখন আপনার হাতে কিছুই থাকবে না। যেভাবেই আগান না কেন আপনার পতন অনিবার্য।’








