জেতার পক্ষে যথেষ্ট যোগ্য প্রার্থী না থাকা এবং আওয়ামী লীগের নিশ্চিত আসনে ছাড় চাওয়ায় আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য কোনও আসনে ছাড় পায়নি ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট। ইসলামী ঐক্যজোট চারটি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট কোনও আসনের দাবি জানায়নি। তবে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটভুক্ত ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের সঙ্গীদের জন্য চারটি আসন চাওয়া হয়েছিল।
ইসলামী ঐক্যজোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। এর সাবেক প্রধান প্রয়াত ফজলুল হক আমিনী একসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এমপি ছিলেন। এই দলটির কিছু রিজার্ভ ভোটও রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে মিলে গঠিত ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান চৌধুরী এই জোটের আহ্বায়ক।
আওয়ামী লীগের কাছে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর জন্য নরসিংদী-৩, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহর জন্য চট্টগ্রাম-৭, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনীর জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ অথবা ৩ এবং সহকারী মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসাইনের জন্য কুমিল্লা-১ মিলিয়ে মোট চারটি আসন চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটিও পায়নি তারা।
বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট আলাদাভাবে কোনও আসন চায়নি। তবে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের ব্যানারে জাকের পার্টি জন্য ফরিদপুর-১, ইসলামিক ফ্রন্টের জন্য চাঁদপুর-৫, জোটের মুখপাত্র এম এ আউয়ালের জন্য লক্ষ্মীপুর-১, মাইজভান্ডার দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানীর জন্য চট্টগ্রাম-২ অথবা ঢাকা-১৪ আসনে মনোনয়ন চাওয়া হয়েছিল।
ইসলামী ঐক্যজোটের আসন না পাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে দলীয় ও জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। প্রতিটি আসনে সাতটি জরিপের মাধ্যমে কোন দলের কী অবস্থা, কোন প্রার্থী কী অবস্থায় আছে তার বিস্তারিত তথ্য আওয়ামী লীগের হাতে আছে। যে দল থেকে কেউ মনোনয়ন পায়নি, সেটা কৌশলগত বাস্তবসম্মত কারণেই হয়েছে। দলগুলো যেসব আসনে মনোনয়ন চেয়েছিল এর কোথাও দেখা গেছে, তাদের প্রার্থী জেতার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। আবার কোনও আসনে শক্তিশালী প্রার্থী থাকার পরও আওয়ামী লীগের অধিকতর শক্তিশালী প্রার্থী থাকা, কিংবা আওয়ামী লীগের নিশ্চিত আসন হওয়ায় সেখানে জোটের প্রার্থীরা ছাড় পাননি।’
ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইসলামী ঐক্যজোট স্বতন্ত্র অবস্থানে রয়েছে, কোনও জোট বা মহাজোটে নেই। এ অবস্থানে থেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চলবে।’
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ইসলামি ঐক্যজোট ২০ দল থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করছে। স্বতন্ত্রভাবে রাজনৈতিক বিকাশের জন্য আমরা কাজ করছি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনি জোটে যাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। আর এখন জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার সম্ভাবনাও কম। আমাদের প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে যদি কোনও আসন সমঝোতা হয়, তাহলে আমরা নির্বাচনি জোটে থাকবো। না হলে আমরা আলাদাভাবেই নির্বাচন করবো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘আসন সমঝোতা হলে কেউ নির্বাচনি জোটে থাকবেন এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু আসন সমঝোতা না হলে কে জোটে থাকবে আর থাকবে না—সেটা সেই দলের নিজস্ব বিষয়। তবে আওয়ামী লীগ বৃহত্তর জোট নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে।’
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, কুমিল্লা-১ আওয়ামী লীগের নিশ্চিত আসন। এখানকার বর্তমান এমপি সুবিদ আলী ভূঁইয়া টানা দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন। নরসিংদী-৩ আসনে আওয়ামী লীগেরই শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে দুইজন। একজন বর্তমান এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। অন্যজন ২০০৮ সালের নির্বাচিত এমপি জহিরুল হক ভূইয়া মোহন। এবার মোল্লা ও মোহন দুইজনই দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের বেশ কিছু একক ভোট রয়েছে। কিন্তু এখানে গত দুইবার জাতীয় পার্টির নেতা জিয়াউল হক মৃধা এমপি নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টি এবারও আসনটি ছাড়তে নারাজ। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে এমপি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী আর চট্টগ্রাম-৭ আসনে এমপি আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী ঐক্যজোট বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে ছিল ১৭ বছর। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ছিন্ন করে দলটি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আস্থায় যেতে তৎপরতা ছিল তাদের। ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের কাছে আসন চেয়ে চিঠিও দিয়েছিল দলটি। গত ৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে গণভবনে গিয়েছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের ১২ নেতা। তফসিল ঘোষণার পর স্বাগতও জানায় দলটি। এছাড়া কওমি সনদের স্বীকৃতি আদায়, স্বীকৃতির পর সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েও মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা। গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কওমি সনদের স্বীকৃতির জন্য শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন দলটির নেতারা।








