ঠাকুরগাঁওয়ের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রভাব সারা দেশে পড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ। ওই ঘটনার জন্য বিএনপি জোটকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ বলেছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যাতে ভোট কেন্দ্রে না যায় তার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনাটিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বলেও মনে করে ক্ষমতাসীন এ দলটি।
শনিবার নির্বাচন কমিশনে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আক্তারুজ্জামানের নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মুখলেসুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে ঠাকুরগাঁওয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আগুনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে আক্তারুজ্জামান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের জগন্নাথপুরে একটি হিন্দু পরিবারের বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে সমস্ত এলাকার মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত ভাইবোনদের সন্ত্রস্ত করার জন্য অনেকটা গান পাউডারের মতো কিছু ব্যবহার করে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আর এটি ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনা হলেও এর ইমপ্যাক্ট সারাদেশে হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সবগুলো ইশতেহার বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহারে এ দেশকে সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্ত করে সম্প্রীতি ও স্বাধীনতার চেতনাভিত্তিক সকল মানুষের সমান অধিকারের কমিটমেন্ট অতীতের মতো এবারও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে আমরা খুবই আশ্বস্ত হয়েছি। কিন্তু যেই মুহুর্তে আমাদের সকল সম্প্রদায় ও ধর্মভিত্তিক মানুষ আশ্বস্ত হয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে সেই মুহুর্তে ঠাকুরগাঁওয়ের এই ঘটনা এ দেশের মানুষকে সন্ত্রস্ত করে ভোট কেন্দ্রে যেতে বিরত রাখার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত।
‘ঠাকুরগাঁও হামলা কারা করেছে‘ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোট-মহাজোট ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের দিকেই মানুষকে উদ্বুদ্ধ করি এবং এগিয়ে নিয়ে যেতে বলি। কিন্তু বিএনপি, উনাদের ২০ দলীয় জোট ও উনাদের ঐক্যফ্রন্ট ৩০ তারিখের নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা বলে সমস্ত জাতিকে একটা সংশয়ের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাই আমরা মনে করি নির্বাচনটাকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় সংশয়িত করতে চায় তারা এই আক্রমণটি করেছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আছে। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে আছে। এটা (ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনা) আমার কাছে মনে হচ্ছে একটা সিগন্যাল- আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যাতে ভোট কেন্দ্রে না যায় তার জন্য এই ঘটনা।
আক্তারুজ্জামান নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের গাড়িবহর, চট্টগ্রামে আফসারুল আমিনের মিছিল, সিলেটের গোয়াইনঘাট ইমরান আহমেদের মিছিলে হামলা, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আওয়ামী লীগের মিছিলের ওপর পেট্রোল বোমা আর ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে দাবি করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কমিশনকে দাবি জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে শক্ত ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচনটা যেন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয় এবং নির্বাচনের ইতিহাসে এটাও যেন একটি ভালো নির্বাচন হিসেবে মর্যাদা পায়- এজন্য ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি। উনারা আশ্বস্ত করেছেন।
বিএনপি তাদের প্রার্থী বাতিল হওয়া আসনগুলোতে পুনঃতফসিলের যে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনে তার বিরোধিতা করেছে বলেও জানান আক্তারুজ্জামান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের আলোকে পুনঃতফসিলের কোনও সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের আদেশেও পুনঃতফসিলের নির্দেশনা নেই। তাই এ দাবির জোরালো বিরোধিতা করেছি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এজন্য কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। মানুষকে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন। আশাকরি তারা বাধাপ্রাপ্ত হবেন না। আমাদের নির্বাচন কমিশন সেই ধরনের পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন।







