নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারকে দেখাশোনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ওসমান পরিবারেই আওয়ামী লীগের জন্ম বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমান গত ২৯ এপ্রিল ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার ছোট ভাই শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ। শেখ হাসিনা বলেন, ''ওসমান পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর একটা নিবিড় সম্পর্ক ছিল। ওই পরিবারে বসেই জন্ম হয়েছিল আওয়ামী লীগের। শামীম ওসমানের দাদা খান সাহেব ওসমান আলী এবং বাবা সামছুজ্জোহা খান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত কাছের মানুষ। নাসিম ওসমান বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে একটি যুব ব্রিগেড গড়ে তুলেছিলেন। পরে জাতীয় পার্টি করলেও তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের।'' আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের অবদানের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''যদি তাদের প্রয়োজন হয়, দেখাশোনা করব।'' অপরাধ করলে কেউই ছাড় পাবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''ওসমান পরিবারকে নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেন। কিন্তু এর চেয়ে অনেক বেশি অপরাধ করার পরও অনেকে তাদের নিয়ে লেখেন না। তাদের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়। অথচ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে এই পরিবারের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বারবার এই পরিবারের প্রতি আঘাত এসেছে।'' সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শামীম ওসমান। আততায়ীর গুলিতে তাঁর মৃত্যু হতে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ''বোমা হামলায় মরি নাই, এক্সটেনশন লাইফে আছি, কীভাবে মরব, ঠিক জানি না। স্বাভাবিক মৃত্যু হবে, না অস্বাভাবিক হবে, জানি না। কার গুলিতে মরব, সেটাও বুঝি না। খুনি তো চারদিকেই ঘোরে। যদি মৃত্যু হয়, তাই আপনাদের কাছে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিলাম। ভুল থাকলে আমাকে মাফ করে দেবেন।''








