ছাত্র রাজনীতি ‘লেজুড়বৃত্তি’ হওয়ার পরিণাম সারাদেশ ভুগছে: কামাল হোসেন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১০ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৫৯আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:২২

বক্তব্য রাখছেন ড. কামাল হোসেন

লেজুড়বৃত্তি সংগঠন গণফোরাম কোনোদিন চায়নি, এমনটি উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ছাত্র রাজনীতি ‘লেজুড়বৃত্তি’ হওয়ার পরিণাম সারাদেশ ভুগছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি সেই তদন্ত চাচ্ছি, যেখানে বিচার বিভাগের লোক থাকবেন। এর পাশাপাশি গভীরে যেয়ে যাদের তথ্য উদঘাটনের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের রাখতে হবে। এখানে আমি গতানুগতিক তদন্ত কমিটির দাবি করছি না। সত্যিকার অর্থে গুরুতর রোগের গোড়াতে কী আছে, সেটা উদঘাটন আমরাও চাইবো, দেশের মানুষও চাইবে। সেটা দ্রুত হোক।’

ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা উচিত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘এই বিষয়টি আমাদের দলের ভেতর আলোচনা করতে হবে। লেজুড়বৃত্তি সংগঠন আমরা কোনোদিন চাইনি, এটা আমরা আগাগোড়া থেকে সবসময় বলে আসছি। ছাত্র রাজনীতি লেজুড়বৃত্তি হয়ে গেলে সেটা অন্য কিছু হয়ে যায়। তার পরিণতি আজকে সারাদেশকে ভুগতে হচ্ছে।’

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দলের মধ্যে যারা রুগ্‌ণ, তারাই এধরনের কাজ করতে পারে। আমি এমনটা কল্পনা করতে পারিনি। একটি ছেলে মত প্রকাশ করেছে, তাকে এভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা—এটা আমাদের দেশে হাজার বছরের সভ্যতার ওপর, স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ। সংবিধানে পরিষ্কার বলা আছে—আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। মতের অমিল হলে পিটিয়ে মারতে হবে, এটা সংবিধানবিরোধী, দেশবিরোধী, রাষ্ট্রদ্রোহিতা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। কারণ, তদন্ত ছাড়া তো রহস্য উদঘাটন হয় না। কিন্তু তদন্ত মানে তদন্ত! নামকাওয়াস্তে তদন্ত না। সমাজে যেভাবে আক্রমণ করে পেটানো হচ্ছে, ভিন্ন মত দিলে পেটানো—এটা গণতন্ত্র হতে পারে না, গণতন্ত্রের ষোলআনা পরিপন্থী। আপনারা সময় নিন, ঝুঁকি নিন, সত্যিকার অর্থে তদন্ত করুন। কারণ, এই দেশকে বাঁচাতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর হতে যাচ্ছে, এই মুহূর্তে পরাধীন যুগের ঘটনা ঘটবে, এটা আমরা কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না। দলমত নির্বিশেষে ঐকমত্য হতে হবে, সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে।’

আবরার হত্যায় জড়িতদের ‘জানোয়ার’ উল্লেখ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘যারা ঘটিয়েছে, এরকম তো জানোয়ারও করে না। আমি কোনও জন্তু চিনি না, যারা মানুষকে এভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। আমরা এদেশের ছেলেদেরকে পশুতে পরিণত করছি, এটা ভয়াবহ একটা অবস্থা। এ থেকে সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দেশকে মুক্ত করতে হবে।’

/এসও/এপিএইচ/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে