দল ও সরকারকে আলাদা করার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেলো আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির বাকি ৩৯ সদস্যের মধ্যে ৩২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির মোট ৭৪ জনের নাম ঘোষণা করা হলো। এতে বাদ পড়া নয় মন্ত্রীর কেউই জায়গা পাননি। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বাদ থাকলো আরও সাতটি পদ।
আওয়ামী লীগের এবারের কমিটিতে মন্ত্রী রয়েছেন পাঁচ জন। এরা হলেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন নয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী। তারা হলেন—সাবেক অর্থ সম্পাদক ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য নুরুল মজিদ হুমায়ুন, সাবেক আইন সম্পাদক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ, সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মহিলা শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, যিনি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। কমিটিতে বাদ পড়া বাকিরা হলেন—পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, তারা দু’জনই বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যপদ থেকে বাদ পড়েছেন।
এবার দলের কমিটি এবং মন্ত্রিসভা উভয় জায়গায় আছেন, কিন্তু পদোন্নতি পেয়েছেন এমন মাত্র একজন ব্যক্তি রয়েছেন। তিনি হলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যিনি আগের কমিটির প্রচার সম্পাদকের পদ থেকে এবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা প্রায় সবাই মন্ত্রিসভার বাইরে রয়েছেন। এমন কয়েকজন হলেন—সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। শাজাহান খান দলের কোনও পদেই কখনও দায়িত্ব পালন না করে একবারেই সভাপতিমণ্ডলীতে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে, তিনি বিগত সরকারে নৌপরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আর জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সভাপতিমণ্ডলীতে এসেছেন। বাহাউদ্দিন নাছিম বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এসেছেন।
এছাড়া, এবারের কমিটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীও এসেছেন। ঘোষিত ৭৪ জনের মধ্যে নারী রয়েছেন ১৯ জন। শতকরা হিসেবে যা দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। যা গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার বাধ্যবাধকতার নির্দেশের দিকে অনেকটা অগ্রগতি। কেননা, গত কমিটিতে নারীর শতাংশ ছিল ১৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এদিকে এবারও বেশকিছু তরুণ নেতা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে এসেছেন। এদের মধ্যে চমক হলেন—উপ-দফতর সম্পাদক পদে সায়েম খানের নাম, যিনি ছাত্রলীগের বিগত কমিটির (সোহাগ-জাকির) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া, ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফরাজী, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, সাবেক নেত্রী গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা, সাবেক নেতা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল কমিটিতে এসেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি পদে শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের পুনর্নির্বাচিত হন। এরপর কমিটির আরও ৪০ জনের নাম ঘোষণা করেন সভাপতি শেখ হাসিনা।








