২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছে বিএনপি। অধিবেশনে দলের কোন সংসদ সদস্য কী বিষয়ের ওপর বক্তব্য দেবেন সেটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে করোনাভাইরাসের ঝুঁকির কারণে বেশি সিনিয়র এমপিদের অধিবেশনে যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়টি তাদের ইচ্ছার ওপর বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দলের ৭ সংসদ সদস্যের সঙ্গে অনলাইনের বৈঠক করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বৈঠক সূত্র জানান, বৈঠক ডাকা হয়েছে মূলত ১০ জুন থেকে সংষদে শুরু হতে যাওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে দলের সংসদ সদস্যরা কোন কোন বিষয়ের ওপর বক্তব্য দেবেন তা জানাতে। সবাইকে একই বিষয়ের ওপর বক্তব্য না দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের মহাসচিব। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এমনিতেই দলের সংসদ সদস্য কম, এরমধ্যে করোনাভাইরাসের কারণে তিন জন অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এদিকে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য, কৃষি, আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিতে হবে। তাই একেকজনকে একাধিক বিষয়ে কথা বলতে হবে। সেই অনুযায়ী সবাইকে নিজের বক্তব্যে বিষয় ঠিক করে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সংসদ সদস্য বলেন, বাজেট পাশ হওয়ার পরে তো সম্পূরক আলোচনা চলবে। ১৪ তারিখের পর বাজেট বক্তৃতা শুরু হবে। তখন দলের সংসদ সদস্যদের করোনা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য, কৃষি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ত্রাণ চুরির কথা বলতে বলা হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে সুরক্ষিত রেখে সংসদে যেতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫-১৬ জুনে আবার বৈঠক করা হবে।
বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির এমপি জিএম সিরাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আসলে ৬০ এর ওপরে যাদের বয়স, তাদের করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। সুতরাং লাইফ ইজ ফার্স্ট। বেঁচে থাকলে রাজনীতি এবং মানুষের জন্য কাজ করা যাবে। আমি এবং আমাদের বাহ্মণবাড়িয়ার এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার বয়সে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি যারা আছেন, তারা যাবেন।'
তিনি আরও বলেন, 'সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে গোটা স্বাস্থ্যখাতটা শেষ হয়ে গেলো, তা বাজেট অধিবেশনে তুলে ধরা হবে। দেশের মানুষ যে চিকিৎসা ও টেস্ট করতে পারছেন না, সেগুলো আসবে। সরকারের সমন্বয়হীনতার সিদ্ধান্তের কারণে দেশের মানুষের আজ করুণ পরিণতি। চিকিৎসার অভাবে অনেকে করোনায় মৃত্যুবরণ করছেন।'
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমি এলাকায় আছি। করোনার কারণে আমি বাজেট অধিবেশনে যোগ দিচ্ছি না। এই মুহূর্তে ঢাকায় যাওয়া সম্ভব না।'
এবারের বাজেট অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সম্ভবনা নেই বলে জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'এবারের বাজেট আলোচনায় আমাদের ফোকাস পয়েন্ট থাকবে করোনার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে। এই নিয়ে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং কী নেওয়া দরকার ছিল, এখানে স্বাস্থ্যখাতটা বড় হয়ে উঠবে। কারণ দেশের স্বাস্থ্যখাতের যে ভঙ্গুর অবস্থা, তা করোনার কারণে সবার নজরে এসেছে। এছাড়া দেশের অর্থনীতি, ত্রাণ চুরি, মানুষের জীবিকা সামগ্রিক বিষয় থাকবে।'
বগুড়া-৪ আসনের এমপি মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'এবার তো সংসদের শিডিউল অনুযায়ী যোগাযোগ করতে হবে। সবাই যে যার মতো করে বাজেট আলোচনা অংশ নেবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বাজেটের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হবে। তবে দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ যেভাবে প্রত্যাশা করেছিল, সেভাবে তো কিছুই পাচ্ছে না। না চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে, না টেস্ট করতে পারছে। হাজার মানুষ বেকার হয়ে আছে, কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, এগুলো বক্তৃতা উঠে আসবে।'








