বিজয় দিবসের আগের রাতে (১৫ ডিসেম্বর দিবাগত) ঢাকার প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের বাসায় সরকার দলীয় ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এসময় ইশরাক হোসেনসহ বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, ‘ইশরাক হোসেনের বাসায় বিজয় দিবসের রাতে হামলা করা হয়। এই হামলা করা, মানুষের ওপর আক্রমণ করা— আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা মনে করে, দেশের মধ্যে বিরোধী দলের ওপরে হামলা করাই বিজয় দিবসের চেতনা। বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার বাসায় হামলা করা কাপুরুষতা ছাড়া আর কী হতে পারে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবি করি।’
ইশরাক হোসেনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘তারা (হামলাকারীরা) মনে করেছে জনপ্রিয় তারুণদ্বীপ্ত এই নেতাকে (ইশরাককে) ভয় পাইয়ে দেবে। সে তার পিতার মতো সাহসী। সকল ব্যারিকেড অতিক্রম করে রাজপথে নামার যে সাহস ও ধারণা সে করে, তা আওয়ামী দুর্বৃত্তরা জানে না। একদিকে পুলিশের আক্রমণ, অপরদিকে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের এই হামলার মধ্যেই আমরা প্রোগ্রাম করি।’
লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তার একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ বিশ্ববাসী দেখেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর। আমেরিকার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট অসীম ক্ষমতার অধিকারী হলেও দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেখিয়েছে যে, আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রেসিডেন্টের চেয়েও শক্তিশালী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। অথচ বাংলাদেশে ঠিক এর উল্টো চিত্র। নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ভুলে গিয়ে সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মনির হোসেন মোল্লা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলার ঘটনায় ইশরাক হোসেন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি কে বা কারা হামলা করেছিল।’








