জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনার দিকে যাচ্ছে। বিভিন্ন ঘটনায় সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কথা দিয়ে কথা রাখছে না। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাও এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে ভোট দিলেও সেই রায় বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য ফ্যাসিবাদ ও গণরুম-গেস্টরুমের বিরুদ্ধে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সেই লড়াইয়ের উত্তরাধিকার ধারণ করেছিল। জাতীয় ছাত্রশক্তি সেই লড়াইয়ের উত্তরসূরি হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে পটপরিবর্তন হলেও সেই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তা এখনও শেষ হয়নি।
তিনি বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি ছাত্ররাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে না পারলে শিক্ষার্থীদের আবারও দাসত্বের জীবন বরণ করতে হতে পারে। তাই সংস্কারের পক্ষে, বিচারের পক্ষে, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফের পক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তিকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় থাকলেও সরকার দৃশ্যমান কিছু করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও চরম অবনতি হয়েছে। এসব কারণে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা থেকে এনসিপি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক সংগঠন। একই গণ-অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের গর্ভ থেকে জাতীয় ছাত্রশক্তিও গড়ে উঠেছে। সংগঠনটির নেতাকর্মীদের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলতে হবে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।
সিফাত আব্দুল্লাহর মুক্তি দাবি
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলিফের চোখ এই সরকার ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা কেড়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক তরুণকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতারের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা তার মুখের ভাষার সঙ্গে একমত নই। কিন্তু কোন আইনে, কোন বিধিতে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে?’
সিফাতের কলেজ থেকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব ঘটনা মিলিয়ে দেশে একটি স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে বলে তারা দেখছেন।
তিনি অবিলম্বে সিফাতের মুক্তি দাবি করেন এবং তার কলেজ থেকে জারি করা নোটিশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির নতুন কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়। আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার সংস্কার থেকে সরে গেছে। পিএসসিতে ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে ছিল কোটা প্রথা, আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৈরি করছেন ‘ভাইভা কোটা’।









