বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে: জয়

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০৫

 

সজীব ওয়াজেদ জয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরীকে অবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসে সোমবার প্রকাশিত জয়ের লেখা একটি নিবন্ধে বলা হয়, ‘আমাদের জানামতে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীর মর্যাদা পায়নি। অতএব সে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া মুক্ত নয়। তাকে প্রত্যর্পণে বিলম্ব করার কোনও যুক্তি নেই। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া দেওয়া উচিত, যেন বিচার সম্পন্ন করা যায়।’
সজীব ওয়াজেদ জয় তার নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯৯৮ সালে ১৫ জন সামরিক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়। আপিল ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে আদালত ২০০৯ সালে চূড়ান্ত রায়ে ঘাতকদের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন। এখানেই কাহিনির শেষ নয়। মামলা শুরুর আগেই ১৯৯৬ সালে রাশেদ চৌধুরী বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া অন্য কয়েকজন ষড়যন্ত্রকারীর সঙ্গে যোগ দেন। তিনি সানফ্রান্সিসকোতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। কিন্তু তার অভিবাসন অবস্থা পরিষ্কার নয়। এরপর থেকে তিনি লসএঞ্জেলস ও সিকাগোতে বসবাস করে আসছেন বলে জানা গেছে।’

‘বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার পরও সরল দৃষ্টিতে চৌধুরী লুকিয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত তাকে আশ্রয় না দেওয়া। রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড মোকাবিলা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশও রাষ্ট্রদ্রোহিতা, সন্ত্রাস ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করে।’
নিবন্ধে জয় আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আমেরিকায় আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ঘাতক ছিলেন না, লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদও ছিলেন। ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত মহিউদ্দিনের স্থায়ীভাবে বসবাস করার আবেদন নাকচ করে দেওয়ার পর তাকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং অন্য চারজনের সঙ্গে তার সাজাও কার্যকর করা হয়।’

জয় লিখেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। সৈন্যরা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে হামলা চালিয়ে পরিবারের অন্য ১৮ জন সদস্যের সঙ্গে আমার নানাকেও গুলি করে হত্যা করে। তাদের মধ্যে আমার নানি, তিন মামা এবং গর্ভবতী মামিও ছিলেন। আমার মা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানিতে তার বোনের সঙ্গে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।  ঘাতকদের একজন রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের লিবার্টিতে বসবাস করছেন। ঢাকার আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বিচার হয়েছে।
রাশেদ চৌধুরী ১৯৯৬ সালের পর থেকে পলাতক থাকায় তার অপরাধের শাস্তি হয়নি। বাংলাদেশ ২০০০ সালের পর থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে আসছে এবং প্রায় দেড় দশকের অধিক সময় অপেক্ষা করছে। তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে পাঠাতে হবে।’
‘আমার নানা যখন খুন হন, তখন আমার বয়স ছিল চার বছর। তার মৃত্যুতে আমার ও আমার পরিবারের জন্য ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমাদের সমগ্র জাতি শোকাহত।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জাতির পিতা এবং প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি বঙ্গবন্ধু হিসেবে অধিক পরিচিত। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। এটি আমার জন্মের বছর। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি সেনারা এবং তাদের এ দেশীয় দোসররা ১১ মাসে ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করে। আন্তর্জাতিকভাবে এটি গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃত।
আমার নানাকে হত্যা করার পর দেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও সামরিক শাসন চলে। সামরিক জান্তা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে ঘাতকদের রক্ষা করে। এই হত্যাকাণ্ডে প্রধান সুবিধাভোগীদের একজন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি শুধু এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে বাধা সৃষ্টি করেননি, তাদের নিরাপত্তাও দিয়েছেন। তাদের সরকারে এবং কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন।
যখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও আমার মা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহন করে প্রধানমন্ত্রী হন, শুধু তখনই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। দ্রুত রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণের পক্ষ থেকে চাপ ছিল, কিন্তু আমার মা জানতেন শুধু রায় বাস্তবায়ন করলেই চলবে না। সবার চোখে ন্যায্যভাবে তা প্রদর্শিত হতে হবে। রায় বাস্তবায়নে আইনের শাসন মেনে সব ধরনের স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়। সাংবিধানিক সব সুরক্ষার সুযোগ দিয়ে হত্যাকারীদের বেসামরিক আদালতে বিচার করা হয়।’
‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ও সাজাপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যুদন্ড ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে কার্যকর হয়। অন্য ৬ জন মাথার ওপর ফাঁসির রায় নিয়ে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।  তারা হলেন—আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, নুর চৌধুরী, মোসলেম উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও আব্দুল মাজেদ। এছাড়া দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আব্দুল আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে পলাতক থাকা অবস্থায় মারা যান। সূত্র: বাসস

/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান