নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপে গিয়ে অন্তত দু’টি বিষয়ে অভিন্ন মত দিতে ১৪ দলীয় জোটকে পরামর্শ দিয়েছে, জোটের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার সকালে ১৪ দলীয় জোটের এক বৈঠকে জোটের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জোট নেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ নাসিম। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংবিধান অনুযায়ীই হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শরিক দলের নেতারা যেন এ বিষয়েই যেন ইসির সঙ্গে সংলাপে সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচনের কথা বলেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের এই নেতা শরীক দলের নেতাদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা যাবে না তবে র্স্টাইকিং ফোর্স হিসাবে থাকবে সেনাবাহিনী। যদি প্রয়োজন হয় তাহলেই ডাকা হবে- এই দুটি বিষয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনে এমন প্রস্তাবই দেবে। ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও যাতে এ দুটি বিষয়ে অভিন্ন প্রস্তাব থাকে।’
প্রসঙ্গত যে, এই দু’টি বিষয়ে বিএনপি ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো বিপরীত মেরুতে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি জোটভুক্ত যেসব রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে ইসির সঙ্গে সংলাপে বসেছেন তারা সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিও তুলেছেন।
সূত্র জানায়, এই দুটি বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতে ভিন্ন মত রাখলেও আপত্তি নেই ক্ষমতাসীন দলের। এরই অংশ হিসাবে তরিকত ফেডারেশন ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে এ দু’টি বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যাশা অনুযায়ীই বক্তব্য প্রদান করেছে।
জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে (আরপিও), অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা, নির্বাচন হবে সংবিধান সম্মতভাবে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকবে স্টাইকিং ফোর্স হিসাবে, সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচনি ব্যয়-সংক্রান্ত ও নির্বাচন কমিশনের নেওয়া বিধি-বিধানের অসঙ্গতি নিয়ে সংলাপে আলোচনা করবে আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা কিভাবে থাকবেন, তাদের ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়েও আলোচনা করা হবে। আওয়ামী লীগ আপাতত এসব বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করেছে। ইসির সঙ্গে সংলাপে এসব বিষয়েই প্রাধান্য দেওয়া হবে।
এর সঙ্গে যুক্ত হবে আরও কিছু বিষয়। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আলোচনা করে চিহ্নিত করবেন বলে জানা গেছে। তবে আওয়ামী লীগ নির্ধারিত এসব বিষয়গুলোতে কোথাও কোথাও জোটের শরিকরা ভিন্ন মত পোষণ করলেও আওয়ামী লীগ আপত্তি করবে না, বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক নাসিম। আগামী সপ্তাহ থেকে আওয়ামী লীগের জোটভুক্ত দলগুলো ইসির সঙ্গে সংলাপে বসবে। এরপর ১৮ অক্টোবর সংলাপে যাবে আওয়ামী লীগ।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে আগামী ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা উপলক্ষে আওয়ামী লীগ যে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে, তাতে একসঙ্গেই অংশ নেবে শরিক দলগুলো, এই সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বৈঠকে।







