আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আগামী মাসে হলেও আওয়ামী লীগ প্রস্তুত।
শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে যৌথসভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা তো প্রস্তুতি নেবো আগামী মাসে নির্বাচন হলে কিভাবে জিততে পারি। যদি নির্বাচন আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে হয়,তাহলে আমাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি থাকবে না? নির্বাচনের বিষয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি তো বলেন নাই কবে নির্বাচন হবে। আমরা ধরে রাখছি নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে। কিন্তু এখন যদি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন তিনি আগাম নির্বাচন দেবেন সেটা তার এখতিয়ার। এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনও কথা হয় নাই। তবে নির্বাচনের জন্য আমরা সব সময়ই প্রস্তুত আছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীবার ক্ষমতায় আসবো কি আসবো না, সেটা নির্ধারণ করবেন আল্লাহ ও এ দেশের জনগণ। আমরা কাউকে ২০ সিটও দেবো না, ৩০ সিটও দেবো না কিংবা ৪০ সিটও দেবো না এটা বিএনপি বলে থাকে। আমরা শুধু বলছি, বিজয়ের ব্যাপারে আমাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে। কারণ আমাদের উন্নয়ন ও অর্জন আছে। দেশের জনগণ শেখ হাসিনার সততা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং দেশের অগ্রযাত্রায় তার ওপর আস্থাশীল। এ সরকার আবারও ক্ষমতায় আসা উচিত বলে জল্পনা-কল্পনা করছে জনগণ। বিএনপির দেখানোর মতো দর্শনীয় ইতিবাচক রাজনৈতিক কোনও কর্মকাণ্ড নেই। এ পরিস্থিতিতে তারা আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক অনেক পিছিয়ে।’
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বার বার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আদালত ও আইন সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না। কোন থানায় অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট না এলে পুলিশ তাদের কিভাবে গ্রেফতার করবে? অতীতে স্বরাষ্টমন্ত্রী ও আইজিপি কয়েকবার বলেছে তার অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট থানায় আসে নাই। খালেদা জিয়াকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না আদালতকে জিজ্ঞাস করুন। সরকার যদি হস্তক্ষেপ করতো তাহলে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের ব্যবস্থা করানো হতো। আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে কিন্তু অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট যদি কোনও থানায় না পাঠানো হয় তাহলে পুলিশ কিভাবে গ্রেফতার করবে?’
মন্ত্রী বলেন, ‘আদালত যখন ষোড়শ সংশোধনীর রায় দেয় তখন আদালত স্বাধীন। আদালত যখন খালেদাকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে বের করে দিলেন তখনও বলেছে, আদালতে হস্তক্ষেপ করছে সরকার। এখন সেই বাড়িতে সেনাবাহিনীর ৫০২ জন কর্মকর্তা বাস করছে। এটা কি সরকারের দোষ।’
বিএনপি রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্ট করলে আওয়ামী লীগ কী করবে এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দলটির কোনও আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই। তারপরও যদি তারা কোনও অপচেষ্টা করে তবে তাদের প্রতিহত করা হবে। গত আট বছরে তাদের ৮ মিনিটও রাজপথে পাওয়া যায় নাই।
বিশ্বের ১৭৩টি দেশের নেতাদের মধ্যে সততা প্রদর্শন এবং কর্মঠ হওয়ার তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় হওয়ায় তাকে দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান ওবায়দুল কাদের।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে টিউলিপ সিদ্দিকি টানা তৃতীয়বার এমপি নির্বাচিত হওয়ায় দলের পক্ষ থেকে তাকেও অভিনন্দন জানানো হয়।
সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘তিনি (আনিসুল) ছিলেন একজন স্বপ্নবাজ,আধুনিক এবং সংস্কৃতিমনা মানুষ। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ অনেকে।







