মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাতীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন কর্মীবান্ধব নেতা। সাবেক এই পানিসম্পদমন্ত্রীর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ‘যারা আব্দুর রাজ্জাককে ভালোবাসে তারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে, শেখ হাসিনাকে ভালোবাসে, বাংলাদেশকে ভালোবাসে।’ শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে শুরু হয় অনুষ্ঠানটি।
আব্দুর রাজ্জাক স্মৃতি সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড.আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘আমি আর রাজ্জাক ভাই একই হলে থেকে রাজনীতি করেছিলাম। তার কাছে থেকে রাজনীতি করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। তিনি আমাকে বুলেটের আঘাত থেকে রক্ষা করেছেন। তা না হলে আজ এখানে দাঁড়িয়ে তাকে স্মরণের সুযোগ পেতাম না।’
স্মরণসভায় আরও ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস, ঢাবি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ, শেখ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরেরও থাকার কথা ছিল। কিন্তু বিশেষ ব্যস্ততার কারণে স্মরণসভায় তিনি আসতে পারেননি বলে জানান উদ্যোক্তারা।
এর আগে শনিবার সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে ছিল আব্দুর রাজ্জাকের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মিলাদ মাহফিল। উদ্যোগ দুটি নেয় আব্দুর রাজ্জাক স্মৃতি সংসদ ও আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন।
আব্দুর রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সাবেক সদস্যর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় পঞ্চাশ দশকের শেষের দিকে। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তার। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। দু’বার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শরীয়পুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও পাওয়া গেছে তাকে। ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর লন্ডনের কিংস হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।







