জনগণের ওপর আঘাত এলে রাজপথে জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যুবলীগের উদ্যোগে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ‘শান্তি সমাবেশে’ দেওয়া ভাষণে এমন ঘোষণা দেন তিনি।
শেখ ফজলে শামস্ পরশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ সঞ্চালনা করেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে স্বপ্ন দেখান। বাঙালি জাতিকে স্বপ্ন দেখান। রাজনৈতিক দল হিসেবে, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি স্বার্থক। তিনি মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে জানেন, স্বপ্ন বাস্তবায়নও করতে পারেন। তাই তিনি আমাদেরকে ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবায়নের পর স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। স্মার্ট বাংলাদেশ মানে কি? স্মার্ট বাংলাদেশ মানে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্ততা, স্বচ্ছতা, জনগণের অংশগ্রহণ, একটা দুর্নীতিমুক্ত ন্যায়পরায়ণ সমাজ ব্যবস্থা তৈরি করা।
তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা শুধু ক্ষমতায় আসার জন্য, লোভ-লালসার জন্য রাজনীতি না করে দেশের কথা ভাবলে ভালো হয়। জনগণের কথা ভাবলে একটু ভালো হয়। জনগণের রাজনীতি আপনার করেন নাই। সারাক্ষণ মিথ্যা আর অপপ্রচারের রাজনীতি নিয়ে পড়ে আছেন। আপনাদের এই ন্যাক্কারজনক রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাখান করেছে। আপনারা একটি বিচ্ছিন্নবাদী জঙ্গি সংগঠনে পরিণত হয়েছেন। গত ১০ তারিখে আপনাদের ডাকে জনগণ সাড়া দেয়নি। এর পরে আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিলের ডাক দিয়েছেন। কিন্তু জনগণ ছাড়া আপনারা গণমিছিল কিভাবে করবেন। দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে আরাম আয়েশে আছেন। আর এদেশের তরুণ প্রজন্মকে বিপথে ঠেলে দেবেন। জঙ্গি সন্ত্রাসী বানাবেন তা হবে না। সেই দিন ভুলে যান।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে এদেশের মানুষ কী চায়? এদেশের জনগণ চায় প্রগতি উন্নতি, শান্তি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা। এসব চাহিদা বঙ্গবন্ধুকন্যা সঠিকভাবে পূরণ করেছেন বিধায় পর পর তিন বার তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন। আগামী দিনেও তাকে জনগণ ভোট দিয়ে পঞ্চমবারের মত প্রধানমন্ত্রী বানাবে।
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, শেখ হাসিনার অভাবনীয় সাফল্যে আপনারা ভীত-সন্ত্রস্ত। আমাদের পদ্মা সেতু হয়ে গেলো। স্বপ্নের মেট্রোরেল হয়ে গেলো। সামনে কর্ণফুলী টানেল হয়ে যাবে। আপনাদের রাজনীতি তো শেষ। তল্পিতল্পা নিয়ে এখনই প্যাকেটে ভরে, বস্তাবন্দি করে ঘরে ফিরে যান। জনগণকে আঘাত করার চেষ্টা করবেন না।
তিনি বলেন, যুবলীগ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে গড়া সংগঠন। তিনি মুজিব বাহিনীর প্রধান, ষাটের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা শেখ ফজলুল হক মণি।
শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, আমরা যুবলীগ যতদিন মাঠে আছি আপনারা জনগণকে স্পর্শ করে দেখান, এদেশের জনগণের জানমালের ওপর হাত দিয়ে দেখান, আপনাদের সেই হাত ভেঙ্গে দেবো। আপনারা আপনাদের সীমার মধ্যে থেকে রাজনীতি করবেন বলে আশা রাখি।
সঞ্চালকের বক্তব্যে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে প্রিয় নেত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে সেই সময় স্বাধীনতাবিরোধীরা বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা দেশকে ধ্বংস করার জন্য, দেশের মানুষের শান্তির ঘুম হারাম করার জন্য আবারও মাঠে নেমেছে।
তিনি বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ১০ তারিখে সরকার পতনের ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার এখনও জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় রয়েছে। আপনাদের ডাকে এদেশের জনগণ কোনও সাড়া দেয়নি। আবার ৩০ তারিখে গণমিছিলের ডাক দিয়েছেন। যাদের সঙ্গে জনগণ নেই তারা আবার কিসের গণমিছিল করবে। গণমিছিলের নামে অগ্নিসন্ত্রাস আর জনগণের জানমালের ক্ষতি করলে রাজপথেই দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে যুবলীগ।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর আলম শাহীন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান পবন, মো. নবী নেওয়াজ, মো. এনামুল হক খান, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, তাজউদ্দিন আহমেদ, জসিম মাতুব্বর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মুহা. বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুর রহমান সোহাগসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।









