পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো পর্যায় এখনও আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সেই পর্যায় যখন আসবে তখন সবাই জানতে পারবে। পরমাণু বোমা ছাড়া উন্নয়নে অর্জনে সব সূচকে আমরা পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছি।
সোমবার রাজধানীর আসাদগেটে ১৪ দল আয়োজিত এক মানবন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন কাদের।
পাকিস্তানের অব্যাহত বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র, কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে সৃষ্ট বির্তকের প্রতিবাদে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ১৪ দল।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সমীক্ষায় সকল আর্থ সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পরাজিত করেছে। পাকিস্তানের রাজধানীতে এই মুহূর্তেও ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং। করাচি শহরে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। পাকিস্তানের এমন কোনও শহর নেই যেটা লোডশেডিং কবলিত নয়। এছাড়া দারিদ্র বিমোচনসহ সব সূচকে আমরা এগিয়ে। শুধু একটা জায়গায় আমরা পিছিয়ে সেটা হল পরমাণু বোমা। কিন্তু সে ধ্বংসের বোমা আমরা চাই না।
তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা পৃথিবীর সেরা রাষ্ট্রনায়কের একজন। পাকিস্তানের কোনও নেতা শেখ হাসিনার ধারের কাছেও নেই। এই দেশের মাটিতে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের কোনওদিন হজম করবে না।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ডাক ও টেলি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, মাহবুব আরা গিনি, শহিদুজ্জামান সরকার, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন প্রমুখ।
২৪ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে মানববন্ধন করবে ১৪ দল
এদিকে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলা শহরে মানববন্ধন করবে ১৪ দলীয় জোট।
সোমবার বিকেলে ১৪ দলীয় জোটের মানববন্ধনে এ ঘোষণা দেন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান সিনেমা হল থেকে ইত্তেফাক মোড় পর্যন্ত এ মানববন্ধন হয়। পাকিস্তানের অব্যাহত বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র, কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সৃষ্ট বির্তকের প্রতিবাদে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ১৪ দল।
নাসিম বলেন, বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র ও স্বাধীনতা বিরোধীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত রাজধানী বাদে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা শহরে মানববন্ধন করবে ১৪ দলীয় জোট।
নাসিম বলেন, ’৭১ সালের পরাজিত সৈনিকরা যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়, তখন সেই কুখ্যাত রাজাকারদের বিচার কার্যকর হচ্ছে। বিএনপি তাদের জন্য মায়াকান্না করে বাঁচাতে না পেরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতেই সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আজ আমরা রাজপথে নেমেছি। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছে। এটা আমাদের প্রতিবাদের ভাষা, শান্তির ভাষা। আমরা কোনওদিন জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি করিনি, এখনো করব না।’
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা পাকিস্তান প্রেম বন্ধ করুন। আপনাদের নির্বাচনে পরাজিত করেছি, ভবিষ্যতেও কোনও নির্বাচনে আপনারা জয়ী হতে পারবেন না। ২০১৯ সালের নির্বাচনে আসুন, দেখি কে জয়ী হয়। আমার দেশের পতাকাকে অপমান করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসনাত আব্দল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, উপ দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা প্রমুখ।
/পিএইচসি/ এএইচ /








