সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে। সংবিধানে অন্যপথ থাকলে তা বিএনপি খুঁজে বের করুক। ক্ষমতার পরিবর্তন চাইলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান রচিত ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বর্ণযুগ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের নবজাতককে গলা টিপে মেরে ফেলেছে। বিএনপির ঘরেই গণতন্ত্র নেই, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে কীভাবে। এদেশে ভোট জালিয়াতি, রাষ্ট্রপতি নিয়ে হ্যাঁ/না ভোট, দলীয় লোক আজিজকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান বানানো, মাগুরা মার্কা নির্বাচন, এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার বানিয়েছিল। যার জন্য ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি হয়েছিল।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার জন্যই বাংলাদেশের গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল কারা ইতিহাস সাক্ষী। ভোট জালিয়াতি শুরু করেছিল বিএনপি। বিএনপির টার্গেটই এক দফা- সরকার হটাও ক্ষমতা দখল। বিএনপির দৃশ্যমান কোনও উন্নয়ন নেই যা দেশের মানুষকে দেখাতে পারবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার নাম শেখ হাসিনা, যিনি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সৃষ্টির কথা ভাবেন। শেখ হাসিনা পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবেন না। তিনি ভাবেন আগামী প্রজন্মের কাছে সুন্দর একটি দেশ উপহার দেওয়ার কথা। পরিবর্তনের আরেক নাম শেখ হাসিনা।
সাহস আর সততার জন্য শেখ হাসিনা দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে শেখ হাসিনাকে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ অতিক্রম ও সংগ্রাম করতে হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর আওয়ামী লীগই করেছে যা এ দেশের জন্য দৃষ্টান্ত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে কতগুলো চক্রান্তকারীদের দিয়ে শেখ হাসিনাকে পদে পদে অপদস্থ করা হয়েছে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারে বিশ্বাস করে। কিন্তু যতই চেষ্টা করুক না কেন আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না। ক্ষমতার পরিবর্তন চাইলে নির্বাচনে আসতেই হবে। এর কোনও বিকল্প নেই।
বিএনপির ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সরকার মামলা দিয়েছে- দলটির এমন দাবির জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি বলছি, জাতির সামনে এই তালিকা প্রকাশ করুন।
তিনি বলেন, নির্যাতনের মামলার গল্প বিএনপির সৃষ্টি। কত যে অপরাধ-অন্যায় তারা করেছে। কত সরকারি অফিস, ভূমি অফিস পুড়িয়েছে, কত যে রেকর্ড পুড়িয়েছে। ৫০০ স্কুল পুড়িয়েছে নির্বাচনের দুদিন আগে কেন্দ্র হবে এ কারণে। তারা এখন বলে তাদের লোকজনকে অন্যায়ভাবে মামলা দিচ্ছে সরকার। তাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে, তা আমরা জনস্বার্থে আপস করতে চাই না।
ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, পাহারাদার বলছেন কাকে? জনগণের স্বার্থে আমরা পাহারা দেই। জনগণের জানমাল রক্ষা আমাদের দায়িত্ব। আপনারা আগুন সন্ত্রাস করবেন, আমরা বসে বসে কি ললিপপ খাবো? আপনারা ভাঙচুর করবেন, আমরাও শপথ নিয়েছি আমরা মাঠে থাকবো।
ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের অগ্রগতির ভিত্তি রচনা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তার সেই সাফল্যগাঁথা নিয়েই লেখা হয়েছে বইটি।
মামুন-উর-রশীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থের লেখক অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান, গ্রন্থের সম্পাদক সাংবাদিক ফিরোজ আলম মিলন, গ্রন্থের প্রকাশক কাজী তারিক আনন্দসহ বিশিষ্টজনেরা।









