আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার লড়াই থেকে বিএনপি-জামায়াত এখনও বিরত হয়নি বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে বিএনপিসহ তার দোসর অপশক্তিকে বাংলার মাটিতে আমাদের রুখতে হবে। এদের প্রতিরোধ-প্রতিহত করতে হবে। এদের পরাজিত করতে হবে রাজনৈতিক আন্দোলনে, পরাজিত করতে হবে নির্বাচনি লড়াইয়ে।
সোমবার (২১ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ ও স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপি-জামায়াতের নাম উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এরা অপশক্তি, খুনি, দুর্নীতিবাজ, অর্থ পাচারকারী, ভোট চোর, অপরাধী চক্র। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার কোনও অধিকার এদের নেই। এই দেশ তারা চায় না। তাদের দেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তাদের দেশ বাংলাদেশ নয়। বাংলাদেশ তাদের হৃদয়ে নেই; হৃদয়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশ যদি তাদের হৃদয়ে থাকতো তাহলে আজ এত সব ঘটনা তারা ঘটাতে পারতো না।
তিনি বলেন, তারা মিথ্যাচার করছে, আওয়ামী লীগ নাকি জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করছে। কী অদ্ভুত! দিবালোকে কেমন প্রহসনের নাটক। ‘৭৫ কে ঘটিয়েছে, জবাব দিন! বঙ্গবন্ধুর পরিবার, শিশু রাসেল, অবলা নারী বেগম মুজিব, অন্তঃসত্ত্বা নারী আরজু মনি, মেহেদী রাঙা হাত সুলতানা এবং রোজী। গোটা পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার টার্গেট কারা করেছিল? এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান। এই ঘাতক চক্রের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ, ক্ষমতার অভিলাষ পূর্ণ করতে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করেছে জিয়াউর রহমান। ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর। কে কাকে নিশ্চিহ্ন করেছে, কে টার্গেট সেদিন?
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন রেখে বলেন, জিয়া পরিবারের কাকে আমরা কখন নিশ্চিহ্ন করেছি? আওয়ামী লীগের কেউ আমরা হত্যার রাজনীতি করি না। ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আমরা কখনও করি না। বরং নিজেরা ষড়যন্ত্রের শিকার হই। কিন্তু আমরা কাউকে হত্যা-ষড়যন্ত্র করি, এমন প্রমাণ বাংলাদেশের ইতিহাসে কেউ দেখাতে পারবে না। আজ তারা বিদেশিদের বলে আওয়ামী লীগ নাকি জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। কীভাবে?
তিনি বলেন, ২০০৪ সালে হাওয়া ভবন থেকে ২১ আগস্টের অপারেশন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল হাওয়া ভবনের তৎকালীন যুবরাজ তারেক রহমান। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, অর্থপাচারের অপরাধী, জিয়াউর রহমানের সন্তান তারেক রহমান কাপুরুষের মতো বিদেশে পলাতক অবস্থায় আছে। ফখরুল সাহেব, আপনাদের পরবর্তীকালের স্বপ্নের প্রধানমন্ত্রী তিনি অর্থপাচারকারী, তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। তাহলে বলুন, আমরা কাকে হত্যার চক্রান্ত করলাম? জিয়া পরিবার বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত করলো, আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য ২১ আগস্ট প্রাইম টার্গেট; বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে প্রাইম টার্গেট করে সেদিন আমাদের ২২টি প্রাণ ঝরে গেলো। কী টার্গেট ছিল সেদিন? টার্গেট আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।









