সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাত কলেজ ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বলে গুঞ্জন উঠেছে। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ‘ঢাবির বাইরে সাত কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি হওয়ার সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করে সেই গুঞ্জন পরিষ্কার করে দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। এ নিয়ে সাত কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সৈকতের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে রাতেই বিক্ষোভ করেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের একাংশ। আজ বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগ। ঢাবির নিয়ন্ত্রণে যেতে নারাজ সাত কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন সাগর বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপার প্রমোশন যুগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাইলো আমাদের ডিমোশন। এটা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। সাত কলেজের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আছে।
এদিকে সাত কলেজ ছাত্রলীগের যোগ্য কর্মীদের মধ্যে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রিপন মিয়া।। তিনি বলেন, আগে সাত কলেজ থেকে ঢাবির কমিটিতে সাত কলেজের যোগ্য কর্মীদের স্থান দেওয়া হোক। তারপর না হয় আমরা ঢাবির অনুসারী হবো।
আরও পড়ুন- ‘সাত কলেজের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে ঢাবির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়াবে ছাত্রলীগ’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে ক্ষেপেছেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভাও। সৈকতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি আগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র পড়েন, তারপর কথা বলেন। একটা জেলা ইউনিটকে কোন সাহসে আপনি উপজেলা ইউনিট বানাতে চান? আপনি যত শিক্ষার্থীর নেতৃত্ব দেন আমি তার থেকে বেশি শিক্ষার্থীর নেতৃত্ব দেই।
ঢাবি ছাত্রলীগ একাডেমিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে শিক্ষার্থীদের সামনে রাজনৈতিক সমন্বয় চেয়ে নতুন প্রহসন যোগ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবীবা আক্তার সাইমুন। তিনি বলেন, তারা কি আদৌ শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের জন্য মত বিনিময় সভা আয়োজন করেছিলেন? নাকি নিজেদের মনকাংশা উপস্থাপন করার জন্য শিক্ষার্থীদের হয়রানি করলেন?
সৈকতের মন্তব্যকে উদ্দেশ করে এই নেত্রী আরও বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাত কলেজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের আওতাধীন থাকবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে ওনার মতামতের আবশ্যকতা দেখছি না। ঢাবির প্রোগ্রামগুলো উঠানোর জন্য আমরা, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ ও ঢাকার অন্যান্য কলেজ যোগদান করি। তাই বলে এটা আপনারা অধিকার ভেবে নেবেন! আমরা জেলা ইউনিট হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নির্দেশনায় যেকোনও জেলা শাখার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারি।
আরও পড়ুন- অধিভুক্ত কলেজগুলোকে ঢাবি ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্তির ঘোষণায় ঢাকা কলেজে বিক্ষোভ
সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম আশিকও তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির সুরে তাল মিলিয়ে বলেন, আগে ঢাবির অধিভুক্ত সাত কলেজ ছাত্রলীগের যোগ্য কর্মীদের মধ্যে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হোক। সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যতম একটি সুপার ইউনিট। সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অধীনে আছে এবং থাকবে। যে বা যারা সাত কলেজের ছাত্র রাজনীতিকে ঢাবির সঙ্গে যুক্ত করতে চায় তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
অন্যদিকে সাত কলেজ ছাত্রলীগ নিয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্যের জেরে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের তত্ত্বাবধায়নে দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপার নির্দেশে আমরা কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগ সংগঠিত। তাছাড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাতটি সুপার ইউনিট আরেকটি সুপার ইউনিটের অধীনে যাওয়ার সুযোগ নেই।









