সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনা

অনির্বাচিত সরকার আনার ষড়যন্ত্র চলছে

এমরান হোসাইন শেখ
২২ অক্টোবর ২০২৩, ২১:২২আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৩, ২১:৫৮

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একটি মহল বাংলাদেশে অনির্বাচিত সরকার দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। তারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সেই কারণে নির্বাচন বানচাল করতে পারলে একটি অনির্বাচিত সরকার এনে তাদের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

রবিবার (২২ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় তিনি এসব কথা বলেন বলে একাধিক সংসদ সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন। ভোট বানচালের ষড়যন্ত্র করতে বিএনপি শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে আসতে পারে বলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি উল্লেখ করেন বলে একাধিক এমপি জানান।

সংসদীয় দলের প্রধান শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক। সেখানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে সংসদ সদস্যদের মধ্যে মোতাহার হোসেন, শামীম ওসমান, নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, কাজী কেরামত আলী, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, রুবিনা আক্তার মিরা, অ্যারোমা দত্ত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে জরিপের ভিত্তিতে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়া হবে। যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।

কাউকে জয়ী করার দায়িত্ব নিতে পারবেন না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ভোট অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। এই ভোটে সবাইকে জিতে আসতে হবে। কাউকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না। আমি কারও চেহারা দেখে মনোনয়ন দেবো না। দেখে শুনে যে জনপ্রিয় ব্যক্তি তাদের নমিনেশন দেবো। এখানে যারা আছেন সবাই মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। যাকে নমিনেশন দেবো তার জন্য কাজ করতে হবে। নমিনেশন পান না পান, নৌকার বিরোধিতা করা যাবে না। যারা নৌকার বিরোধিতা করবে তাদের রাজনীতি চিরতরে শেষ বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

আওয়ামী লীগ সভাপতি তার বক্তব্যকালে নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা বলেন। তিনি বলেন, তারা জানে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে। এ জন্য তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়। নির্বাচন বানচাল করে একটি অনির্বাচিত সরকার বসাতে চায়। এটা করতে পারলে তাদের তারা ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারে। সে কারণে নির্বাচন বাদ দিয়ে অনির্বাচিত সরকারকে চায় দেশি-বিদেশি অনেকেই। কারণ, অনির্বাচিত সরকার হলে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে সুবিধা হয়।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, মনোনয়ন দেওয়া হবে বিভিন্ন জরিপের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। যার গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা আছে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ’

জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপির চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বিএনপি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করলে কোনও বাধা দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তারা আন্দোলন করতে চায় করবে। কোনও সমস্যা নেই। আমরা বাধা দেবো না। তবে অগ্নিসন্ত্রাস, ভাঙচুর করলে ছাড় দেওয়া হবে না।  আমরা সব মোকাবিলা করতে অভ্যস্ত। হেফাজত মোকাবিলা করেছি। জামায়াত-বিএনপি মোকাবিলা করেছি। এবারও করবো।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা বৈঠকে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না। আমরাও যাতে নির্বাচনে অংশ না নেই সেই ষড়যন্ত্র চলছে। এটা হলে তারা তাদের ইচ্ছেমতো ব্যক্তিদের ক্ষমতায় বসাতে পারে। তবে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

জানা গেছে, বৈঠকে কাজী কেরামত আলী জেলা আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাইকে সাধারণ সম্পাদক করার পর থেকে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এলাকায় গিয়ে এমপিদের মিটিং করার জন্য। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের কথা হচ্ছে তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও মিটিং করা যাবে না। এমপি হয়েও কি এলাকায় যেতে পারবেন না- এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

শামীম ওসমান তার বক্তব্যে কোন্দল ভুলে আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, আমাদের ত্যাগী নেতাকর্মী রয়েছে। তারপরও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা চাই আমাদের চারটা সিটই (লক্ষ্মীপুর জেলার ৪টি সংসদীয় আসন) আওয়ামী লীগের যেন হয়। আমরা সবাই এক জোট। আশা করি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জিতে আসতে পারবো।

/এফএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
প্রধানমন্ত্রী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাবিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান
বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ডাল-ভাত খেলেন প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম মারা গেছেন
সর্বশেষ খবর
৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন কর্মচারী বরখাস্ত
৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন কর্মচারী বরখাস্ত
পিসিওএসে টেকসই ওজন কমাতে ৫ ভুল থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
পিসিওএসে টেকসই ওজন কমাতে ৫ ভুল থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
চট্টগ্রামের দুই উপজেলায় এখনও ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি
চট্টগ্রামের দুই উপজেলায় এখনও ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি
‘সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ, কানসাস’, সেমিফাইনালের আগে মেসির বিদায়ী পোস্ট 
‘সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ, কানসাস’, সেমিফাইনালের আগে মেসির বিদায়ী পোস্ট 
সর্বাধিক পঠিত
পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশিদের ভ্রমণ স্থগিতে আইনি নোটিশ
পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশিদের ভ্রমণ স্থগিতে আইনি নোটিশ
বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ 
বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ 
কেন শিবির ছাড়লেন সাদিক কায়েম
কেন শিবির ছাড়লেন সাদিক কায়েম
শিবির ছাড়ার ঘোষণা সাদিক কায়েমের
শিবির ছাড়ার ঘোষণা সাদিক কায়েমের
সেজদা, নামাজ, রোজা: ইউরোপীয় ফুটবলে মুসলিম পরিচয়ের নয়া উত্থান
সেজদা, নামাজ, রোজা: ইউরোপীয় ফুটবলে মুসলিম পরিচয়ের নয়া উত্থান