পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস/PCOS) আক্রান্ত নারীদের জন্য ওজন কমানো অনেক সময়ই বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ক্ষেত্রে কঠোর ডায়েট বা অতিরিক্ত ব্যায়ামের পরিবর্তে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মতো টেকসই জীবনধারার পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর। এই বাস্তবতারই একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ইনস্টাগ্রামভিত্তিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানিয়া। তিনি দাবি করেছেন, মাত্র দুই মাসে ৭৫ কেজি থেকে ৬৬ কেজিতে নেমে এসে মোট ৯ কেজি ওজন কমিয়েছেন। তবে এই যাত্রায় করা পাঁচটি ভুল তিনি আর কখনো করবেন না বলেও জানিয়েছেন।
তানিয়ার মতে, শুরুতে দ্রুত ওজন কমানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য উপকারী ছিল না। পরে অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝতে পারেন, পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর ও টেকসই অভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১. নাশতা বাদ দেওয়া
তানিয়ার মতে, ওজন দ্রুত কমানোর আশায় নাশতা বাদ দেওয়া ছিল তার সবচেয়ে বড় ভুল। পরে তিনি প্রোটিনসমৃদ্ধ নাশতা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
২. অতিরিক্ত সময় কার্ডিও ব্যায়াম করা
তিনি বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্ডিও করার পরিবর্তে স্ট্রেংথ ট্রেনিং এবং নিয়মিত হাঁটা তার জন্য বেশি কার্যকর হয়েছে। এতে ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরের ভারসাম্যও বজায় ছিল।
৩. খাবারকে শত্রু মনে করা
তানিয়ার ভাষায়, পিসিওএস মানেই না খেয়ে থাকা বা কঠোর ক্র্যাশ ডায়েট নয়। বরং পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার এবং সুষম খাদ্য গ্রহণই তাকে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দিয়েছে।
৪. পানীয় থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ
চিনিযুক্ত কফি, কোমল পানীয় বা প্যাকেটজাত জুসের মতো পানীয় থেকে অজান্তেই অনেক ক্যালোরি গ্রহণ করতেন বলে জানান তানিয়া। তার মতে, এসব পানীয় ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা পিসিওএস আক্রান্ত নারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৫. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া
তানিয়া বলেন, তার লক্ষ্য শুধু ওজন কমানো নয়, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং পিসিওএস আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা। তাই তিনি অস্বাস্থ্যকর জীবনধারাকে আর স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে চান না।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিসিওএসে ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়। তাই দ্রুত ফলের আশায় চরম ডায়েট বা অতিরিক্ত ব্যায়ামের পরিবর্তে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যক্তিগত পরিকল্পনা অনুসরণ করা উচিত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এই চারটি বিষয়ই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি উপকার এনে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও তানিয়ার ইনস্টাগ্রাম ভিডিও।








