বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর ডাকা অবরোধের প্রথম দিনে পুরান ঢাকায় দিনভর শক্ত অবস্থানে ছিল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবরোধ প্রতিরোধে মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।
পুরান ঢাকার লালবাগ, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, বংশাল, গেন্ডারিয়া ও ওয়ারী থানার আওতাধীন এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গায় লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে দেখা যায়, কাউন্সিলর আ. রহমান মিয়াজী সদরঘাট এলাকায় মিছিল ও অবরোধবিরোধী অবস্থান নেন। একই চিত্র দেখা গেছে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাউন্সিল অফিসের সামনে জনগণের নিরাপত্তা দিতে অবস্থান নেন কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক। মহড়া দেন এলাকায়। এদিকে ধোলাইখাল, সূত্রাপুর গেন্ডারিয়া এলাকায় ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আলো, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আরিফ হোসেন ছোটন, ৪৪ নম্বরে মিজানুর রহমান ইমন, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে শাহানা আক্তার অবস্থান নেন। নিজ এলাকায় অবস্থান নেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমান বাবলা।
৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফ হোসেন ছোটন বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের অবৈধ অবরোধ জনগণ মানে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সদা প্রস্তত। বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিহত করবো।’
হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, ‘লালবাগ-চকবাজার আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। এখানে জামায়াত-বিএনপির ঠাঁই নাই। আমরা রাজপথে আছি।’
এদিন পুরান ঢাকায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও অবরোধবিরোধী মিছিল করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ ও বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ইব্রাহিম ফরাজি ও এস এম আকতার হোসাইনের নেতৃত্বে ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে রায়সাহেব বাজার পর্যন্ত মিছিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। অন্যদিকে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও ক্যাম্পাসের সামনে শক্ত অবস্থান নেন।
এছাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের পাশাপাশি নিজ এলাকা যাত্রাবাড়ীতে শক্ত অবস্থান ও বিশাল মিছিল বের করেন মহানগর দক্ষিণের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আলহাজ্ব কামরুল হাসান রিপন। বিএনপি জামাতের ডাকা অবরোধকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত সমাবেশের নামে মানুষ খুন, পুলিশ হত্যা ও সাংবাদিক মারধর করেছে। হরতালের নামে গাড়ি পোড়াচ্ছে। তাদের কোনও ছাড় হবে না। যাত্রাবাড়ীতে কোনও তান্ডব চালালেই রুখে দেবো আমরা।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও ঢাকা ৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা.মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত একটা সন্ত্রাসী দল। তাদের কাজ গাড়িতে আগুন দেওয়া আর মানুষ মারা। জনগণই তাদের রুখে দেবে।’









