বিএনপি ও জিয়া পরিবার ষড়যন্ত্রের শিকার বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘এক-এগারোর মতো বর্তমানেও তারেক রহমান ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’। ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে।’’ শনিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনরপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৯ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা প্রমাণিত যে, এক-এগারোর সরকারই বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এক-এগারোর সরকার যে পরিকল্পানা নিয়ে এসেছিল, এই সরকার তারই ধারাবাহিকতা রেখে ক্ষমতায় আছে।’ তিনি বলেন, ‘১/১১ সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল দল ভাঙার । আর এ ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রয়েছে।’
‘সুসংগঠিত দল ছাড়া এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানো যাবে না’ উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যতক্ষণ না এই সরকারকে হটিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে, ততক্ষণ তারেক রহমানকে ফেরানো সম্ভব হবে না।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ শুরু করেছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এই অবস্থা থাকতে পারে না। এখানে এখন গণতান্ত্রিক স্পেস নেই। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবর্ষিকীতে র্যালি পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কারন এই সরকার বিএনপিকে ভয় পায়।’
মাইনাস টু ফর্মুলার নামে এই সরকার মুলত বিএনপির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন দলটির এই নীতি নির্ধারক। তিনি বলেন, ‘সেজন্য ওই সময়ের অবৈধ সরকার তারেক রহমানের ওপর বিভিন্ন মামলা দিয়ে নির্যাতন করেছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। বিএনপিকে নিঃশেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এরই অংশ হিসেবে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে তাকে হত্যা করার জন্য রিমান্ড নিয়ে অবর্ণনীয় নির্যাতন করেছে এক-এগারোর সরকার।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশের যে অবস্থা, তাতে শুধু তারেক রহমানই নন, খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র নেতারাসহ মাঠ পর্যায়ের নেতারা পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় আসামি। বিএনপির বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। খালেদা জিয়াকে বারবার মামলায় হাজিরা দেওয়ানো হচ্ছে। অথচ সরকারের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে তারা। কিন্তু বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে আরও মামলা হয়েছে।’
সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, যুব দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির হোসেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ।
/এসটিএস/এমএনএইচ/








