কুমিল্লার দাউদকান্দিতে শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসায় হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘তিনি আমাদের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র লিডার, তার ওপরে হামলাকে আমরা মনে করি স্থায়ী কমিটির ওপর হামলা, আমাদের দলের ওপর হামলা। আমরা এটাকে ছোট করে দেখতে পারি না। আওয়ামী লীগের এই হামলায় প্রমাণ হয়েছে যে তাদের চরিত্রের এতটুকু পরিবর্তন হয়নি। বরং তারা নতুন উদ্যমে বিএনপি তথা ভিন্নমত-বিরোধী দলকে নির্মূল ও দমন করার জন্য চরম সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছে।’
রবিবার (৮ মে) রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, ‘এই অনির্বাচিত সরকার তাদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্যে আবার এখন থেকেই সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছে। গতকাল আমাদের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করতে তার গ্রামের বাড়ি দাউদকান্দিতে গিয়েছিলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এরপর তিতাসে তার একটি নিমন্ত্রণ ছিল। সেই নিমন্ত্রণ রক্ষা করার জন্য যখন তিনি সেখান থেকে বের হয়েছেন, তখন অতর্কিতে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার ওপর লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল ছোড়ে। যারা তার সঙ্গে ছিলেন তাদের ওপরও আক্রমণ করে।’
এই হামলাকে ড. মোশাররফের ওপরে ‘ফিজিক্যালি আক্রমণ’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আক্রমণটা এত তীব্র ছিল যে কর্মীরা ড. মোশাররফ হোসেনকে তাকে বাসায় তুলে দেন এবং গেট বন্ধ করে দেন। তারপরও বৃষ্টির মতো আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ইট মারতে থাকে, পাথর মারতে থাকে…।’
‘কিছুক্ষণ পরে পুলিশ এসে নিয়ন্ত্রণ করে এবং খন্দকার মোশাররফ হোসেন সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন’, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।
রমজানের সময়ে নরসিংদীর পলাশে ইফতার মাহফিলে স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান এবং বরিশালের গৌরনদীতে সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় ইফতার মাহফিলে ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে’- অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন আহমেদকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চরিত্র এতটুকু বদলায়নি। বরং তারা ভয় দেখিয়ে বিরোধী দলকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। মূল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তারা সন্ত্রাস, ভয়ভীতি দেখিয়ে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে।’
‘সয়াবিনের মূল্য বৃদ্ধি সিন্ডিকেটের স্বার্থেই’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধির মূল কারণটি হচ্ছে এই সরকার দুর্নীতিবাজ। তারা সিন্ডিকেট নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে আছে। এ কারণে এভাবে জনগণের ওপর ভয়াবহ একটা অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করেছে।’
বাজারে ২২০ টাকা লিটারেও ‘তেল পাওয়া যাচ্ছে না’ অভিযোগ করে বিএনপির নেতা বলেন, ‘তেল নাই, উধাও হয়ে গেছে। এটাই হচ্ছে চোরাকারবারি, চোরাচালানের মূল বিষয়টা। সরকার তো এখন চোরাকারবারি হয়ে গেছে।’
সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে দল থেকে কোনও কর্মসূচি দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এর আগেও আমরা প্রায় এক মাস ধরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন করেছি। অবশ্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’









