যতক্ষণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার না আসছে, ততক্ষণ নির্বাচন হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে পিলখানায় শহীদ ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে, রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এক গণবিক্ষোভ, গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে এদের পরাজিত করতে হবে। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। যতক্ষণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার না আসছে ততক্ষণ নির্বাচন হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। এভাবেই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, শান্তিপূর্ণভাবে যেতে চাই। তাই আমরা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায় এগোচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ জেগে উঠছে। আজকে আপনি দেয়ালের লেখা পড়েন, মানুষের চোখের ভাষা পড়েন। দেখবেন, সবখানেই এই সরকারের প্রতি মানুষের ঘৃণা ঘৃণা আর ঘৃণা। এই মুহূর্তে তারা এই সরকারের পরিবর্তন চায়। তাই আমরা সবাই আরও সাহস সঞ্চয় করি, আরও ঐক্যবদ্ধ হই। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব রাজনৈতিক দল, সব সংগঠন, সব ব্যক্তি এক হয়ে দেশের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। একাত্তরে আমরা যেভাবে যুদ্ধ করেছি, সেই একইভাবে এই দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য, মানুষকে বাঁচানোর জন্য, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আজকে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে।’
বিডিআর বিদ্রোহের কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি এলেই আওয়ামী লীগ সরকারের হৃদকম্প উঠে যায়। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমি বলবো, কিছুটা লজ্জার সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেছি—গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল। এই ২৫ ফেব্রুয়ারি কোনও পত্রিকায় এই যে একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হয়েছিল, সেই সম্পর্কে এক কলামও সংবাদ ছিল না। জাতিগতভাবে আমরা কোন জায়গায় এসে পৌঁছালাম যে এমন একটা ভয়াবহ নৃশংস কাণ্ড—যা আমাদের জাতীয় জীবনে নাড়া দিয়েছে, আমাদের জাতীয় অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, সেই দিনটিকে আমরা স্মরণ করতে পারলাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের একজন মন্ত্রী বললেন—এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত। এতটুকু দ্বিধা করলেন না এমন একটা উক্তি করতে। আমরা তো আজকে পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগ এবং তৎকালীন সরকার জড়িত। তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়, তাদের চক্রান্ত ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এই বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি দুর্বল, নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই দেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মনোবল সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অত্যন্ত গভীর সংকটে আমরা রয়েছি। আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের সংকটে আমরা রয়েছি। আমাদের অস্তিত্ব আজকে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এই আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, বেআইনিভাবে আসুক, জবর দখল করে আসুক, আর যেভাবেই আসুক—তখনই এই দেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে। আমরা জানি, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। সেই তখন একই কায়দায় আওয়ামী লীগ দেশের সর্বনাশ করেছে। তারা দেশের সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করেছে। মানুষ যে কারণে যুদ্ধ করেছিল, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য, সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল।’
ফখরুল বলেন, ‘সেদিনও তাদের দুঃশাসনের জন্য দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। সেদিনও তারা এই দেশকে একটি নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। ২০০৮ সালে তারা যখন আবার এসেছে, তখন আবার তারা শুরু করেছে—এই দেশকে কীভাবে পুরোপুরি একটি নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। কীভাবে এই দেশের মানুষকে সবসময় একটা পরাধীন অবস্থায় রাখবে, সেই চেষ্টা করেছে।’
পিলখানায় শহীদ ব্যক্তিদের স্মরণে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন প্রমুখ।








