নয়াপল্টন বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বদলে গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ আয়োজন করতে বুধবার (২৬ জুলাই) ডিএমপির প্রস্তাবের পর গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে বিএনপি ও দলটির সঙ্গে যুগপতে যুক্ত বিরোধী দলগুলো। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবারের (২৭ জুলাই) মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের অনুসারীদের প্রোগ্রাম থাকায় ‘সংঘর্ষের’ আশঙ্কাও করছেন নেতারা। এ পরিস্থিতিতে যেকোনও মূল্যে সংঘর্ষ এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ‘মহাসমাবেশ’ আয়োজনে নানামুখী বিকল্প ভাবছে বিএনপি। এরইমধ্যে দলটির পক্ষ থেকে যুগপতে যুক্ত দলগুলোর কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।
বিএনপি ও যুগপতে যুক্ত গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আয়োজন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গোলাপবাগ মাঠে’ সমাবেশ করার প্রস্তাব পাওয়ার পর বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত আন্দোলনরত দলগুলো। যুগপতে যুক্ত দলগুলোর নেতারাও বিএনপির সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষায় রয়েছে।
যুগপতে যুক্ত একাধিক দলের শীর্ষ নেতা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে উল্লেখ করেছেন, বিএনপির সমাবেশ গোলাপবাগে করা হলে ভেন্যু নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে। একইসঙ্গে যেহেতু ক্ষমতাসীন দলের শান্তি সমাবেশ নির্ধারিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে কোনও কোনও পক্ষ মহাসমাবেশের তারিখ পরিবর্তন করে শুক্রবার বা শনিবার শিফট করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
গণতন্ত্র মঞ্চের একজন প্রভাবশালী নেতা মনে করেন, যদি তারিখ পরিবর্তন করা হয়, তাহলে আন্দোলনের রাজনৈতিক পরাজয় ঘটবে। আন্দোলনের মোরালিটি নষ্ট হয়ে যাবে।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, যদি ভেন্যু জটিলতা না কাটে, সেক্ষেত্রে ডেট শিফট হতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারি ছুটির দিন সমাবেশ হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কম বলেও জানান এই নেতারা।
এ বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ভেন্যু নিয়ে আলোচনা করছি। বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে পারবো।’
সূত্র জানায়, এরইমধ্যে মঞ্চের নেতারা বৈঠকে বসেছেন। পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও অনির্ধারিত বৈঠক করেছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় ডিএমপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সমঝোতার চেষ্টা চলছিল।
দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
একটি সূত্রের ধারণা, বিএনপি গোলাপবাগ মাঠকেই বেছে নিতে পারে। তবে কোনও কোনও নেতা এর বিপক্ষে। তারা মনে করেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই সমাবেশ করা দরকার।
এ বিষয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার এটাই করে। উসকানি দেয় আমাদের। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে জনগণের সরকার গড়বো। আমরা চাই, শান্তিপূর্ণভাবে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারের পতন ঘটাবে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে চাই।’
ছবি: নাসিরুল ইসলাম









