নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা সব পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। রবিবার (১২ মে) রাজধানীর গুলশানে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৮ মে) রাত ৮টায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা র্যাপিড অ্যালার্ট সিস্টেম ফর ফুড অ্যান্ড ফিড (আরএএসএফএফ) গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলেছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রফতানি করা ৫২৭টি ভারতীয় পণ্যে ক্যানসার উপযোগী উপাদান পাওয়া গেছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আরএএসএফএফ জানিয়েছে, ৫২৭টি পণ্যের মধ্যে ৩৩২টি খাবার পণ্যের উৎস ভারতে। বাকি পণ্যগুলো সরাসরি ভারতের না হলেও সেগুলোতে ভারতের ট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ভোগ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে বাদাম, তিল বীজ, ভেষজ, মসলা, ডায়াবেটিক জাতীয় খাবার। এসব পণ্যের মধ্যে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান ইতিলিন অক্সাইড শনাক্ত করা হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই রাসায়নিক উপাদান মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি লিম্ফোমা এবং লিকোমিয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এই রিপোর্ট প্রকাশের পর ভারতের ৮৭টি পণ্যের চালান ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়ী কমিটি মনে করে, জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশেরও উচিত দেশে আমদানি করা প্রতিটি পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মান যাচাই করে নেওয়া। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) কিংবা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য বাজারে ছাড়া উচিত নয়।’
বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, ‘দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান তাঁবেদার সরকার আমদানি করা খাদ্যপণ্য যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে কিনা এ বিষয়ে জনগণ যথেষ্ট সন্দিহান।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমদানি করা পণ্য যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া গেলে প্রতিটি নাগরিককে নিজের এবং পরিবারের সবার স্বাস্থ্য রক্ষায় নিজ উদ্যোগেই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমদানি করে বাজারে ছেড়ে দেওয়া ক্যানসারের উপাদানযুক্ত সব পণ্য পরিহার করতে হবে। জলবায়ু তহবিলের টাকা লুটপাটকারী সরকারের ওপর ভরসা না করে নিজেই সাধ্যমতো নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’









