এ যেন অনেকটা ‘অপশন’ বেছে নেওয়ার মতো ঘটনা। আন্দোলনের পর ব্যর্থদের সরিয়ে সক্রিয়দের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের ‘প্রতিশ্রুতি’ থাকলেও সেই অভিযুক্তদের ওপরই ভরসা রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১৩ জুন মধ্যরাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ; চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং বরিশাল মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবে রবিবার (৭ জুলাই) দুপুরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগর কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।
রিজভী জানান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে সাইফুল ইসলাম নিরবকে। তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি ছিলেন। দলটির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হককে করা হয়েছে সদস্য সচিব। ঢাকা উত্তর বিএনপির এই দুজনের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিএনপির মহানগরের নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০১০ সালের ১ মার্চ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাইফুল আলম নিরবকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের কমিটি হয়। সেই কমিটি মেয়াদ পূর্ণ করে। পরে ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি সাইফুল আলম নিরবকে সভাপতি এবং সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের নতুন কমিটি করা হয়। ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি তারা। যদিও দুজনেই পুরস্কৃত হয়েছেন। সাইফুল আলম নিরবকে দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের পদ। আর সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু পেয়েছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব।
গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলেছিলেন, তারা আন্দোলন পর্যালোচনা করেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আন্তরিকভাবে পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনও কোনও সংগঠন দল পুনর্গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল।
যদিও স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে উল্লেখ করেছেন, কমিটি পুনর্গঠনে মতামত দিলেও তারেক রহমান এ বিষয়ে কোনও আলোচনা করেননি। এমনকি কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে, এ নিয়ে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রিক কয়েকজন নেতার মতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন নিয়মিত। এতে সিনিয়রদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
একজন সদস্য মনে করছেন, দেশে না থাকায় তারেক রহমান মূলত তার অনুসারী, চারপাশের বলয়ের বাইরে যেতে পারছেন না। যে কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ‘বিলুপ্ত হাওয়া ভবন’-এর লোকেরা প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করছেন, যার সর্বশেষ চিত্র এসেছে আজ রবিবার। হাওয়া ভবনের একজনের প্রভাবে ঢাকা মহানগরে আবারও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন আমিনুল হক।
যদিও রবিবার দুপুরে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জানান, মূলত ঢাকা মহানগরে স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের যে প্রভাব, তা থেকে বের হতে পারছেন না তারেক রহমান। তাদের অনুসারীদেরও জায়গা দিতে হচ্ছে।
রিজভী সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়কের পদ পেয়েছেন রফিকুল আলম মজনু। তিনি আগের কমিটিতে সদস্য সচিব ছিলেন। আগের কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ রবিনকে এখন সদস্য সচিব করা হয়েছে। রফিকুল ইসলাম মজনু মির্জা আব্বাসের অনুসারী হিসেবে দলে পরিচিত।
এছাড়া, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে এরশাদুল্লাহকে। আর সাবেক ছাত্রদল নেতা নাজিমুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। বিএনপির বরিশাল মহানগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক আবারও আহ্বায়কের পদ পেয়েছেন। আগের কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিয়াউদ্দিন সিকদার হয়েছেন সদস্য সচিব। ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী আফরোজা খানম নাসরিনকে নতুন কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুলাই) রাতে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপে বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে দাবি করেন, মূলত রাজনৈতিক কোনও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিএনপি কমিটি করছে না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দীর্ঘস্থায়ী কোনও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তরুণদের সামনে আনছেন। স্থায়ী কমিটিতেও এর রেশ দেখা যাবে।’
রুহুল কবির রিজভী রবিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গঠিত সব কমিটিই আংশিক।








