বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল খান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ বহু বছর নিজেরা ভোট দিয়ে সরকার কায়েম করতে পারেনি। এখন তারা সে অধিকার চায়। এ অধিকার আদায়ের লড়াইকে নানাভাবে বিকৃত ও বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বিজয়নগরের একটি রেস্টুরেন্ট জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একাংশের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিগত দিনে আমরা দুটি বিষয়ে আন্দোলন করেছিলাম। একটি ফ্যাসিস্টের পতন এবং আরেকটি হচ্ছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। সেটার জন্য শোকর আদায় করছি। কিন্তু আরেকটা অংশ আমরা অর্জন করতে চাই। সেটা হচ্ছে গণতন্ত্র।
ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে বিগত জুলাই-আগস্টের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। কোনও কারণে ঐক্য বিনষ্ট হলে সে সুযোগ নেবে পতিত ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার। যে সরকার বর্তমানে রয়েছে, তারা জোর করে বসেনি। আমরাই তাদেরকে বসিয়েছি। কাজেই তাদেরকে অসহযোগিতা করা যাবে না।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, মানুষের আকাঙ্ক্ষা কী তা বলতে দিন। আমরা যারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করলাম, আর যারা মুক্তিযুদ্ধের ধারে কাছেও ছিল না, বিগত দিনে তারা এসে আমাদেরকে চেতনা শেখাতেন। বাংলাদেশের মানুষকে শেখানোর চেষ্টা করাটা ভুল। বাংলাদেশের মানুষ কী চায়, সেটা আগে বুঝতে হবে। আমরা তাদের মনোভাব বুঝে আন্দোলন করার কারণেই ৫ আগস্টের আগে জেলে যেতে হয়েছে। মানুষ যা চায় আমরাও তা চেয়েছিলাম বলেই তো বিগত দিনে আমাদের নেতাকর্মীদের জেলে থাকতে হয়েছিল। আর মানুষ যা চায় তা রাজনৈতিক কেন্দ্র বাস্তবায়ন করে তা প্রতিফলিত করবে, এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা শায়খ আব্দুর রহমান ইসলামাবাদীর সভাপতিত্ব বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ১২ দলীয় জোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার।
আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আ. খলিল, মাওলানা শহীদুল ইসলাম আনসারী প্রমুখ।








