ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি ও তার শরিকরা। ইতোমধ্যে তারা সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতও লড়াই করেছে হাড্ডাহাড্ডি। আর দলটির আরেক শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) তুলনামূলক ভালো করেছে। তবে প্রধান এই তিন দলেরই বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা পরাজিত হয়েছেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তাদের পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে। আবার ধর্মীয় হিসাব-নিকাশ ও নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংকও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
কারণ পরাজিতদের ভোটের ব্যবধান খুব বেশি না। হয়তো আরেকটু সিরিয়াস হলে ভিন্ন রকম ফলাফল হতে পারতো। কিছু আসনে শীর্ষ নেতাদের জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়েছে বিস্ময়করভাবে। আবার হারলেও সম্মানজনক ভোট পেয়ে আলোচনায় এসেছেন কেউ কেউ।
নিশ্চিত জয়ী হওয়া আসনে হারলেন বিএনপির চার নেতা
এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশিরভাগ শীর্ষ নেতাই জয়ী হয়েছেন। তবে এর বাইরেও কিছু হেভিওয়েট নেতা পরাজিত হয়েছেন। এসব আসনে অতীতে জয়ের রেকর্ড ছিল বিএনপির। এর জন্য দলীয় কোন্দল ও সমন্বয়হীনতার পাশাপাশি নির্বাচনে অনিয়মকেও দায়ী করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ১ লাখ এক হাজার ৯২৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। আর ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী সালমান ওমর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হেরে যান প্রিন্স।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে পরাজিত হন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট। আর ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। এ আসনটি থেকে অতীতে চার বার জয়ী হয়েছেন বিএনপির হারুন। সর্বশেষ ২০১৮ সালেও আওয়ামী লীগের অধীনের নির্বাচনে নির্বাচিত হন তিনি। তখন বিএনপি ও জামায়াত এখানে উন্মুক্ত নির্বাচন করে। তবে আসনটিতে জামায়াতের অবস্থানও বেশ শক্ত।
ঢাকা-১১ আসনে মাত্র ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। আর বিজয়ী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট।
বিএনপিসহ রাজনীতি সচেতন অনেকের ধারণা, এম এ কাইয়ুম এখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী। আর নাহিদ বিগত দিনে তেমন প্রচারণায় না থাকা নিয়েই নানা কথা ছিল। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তিনি মাঠে নেমে পড়েন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা-১১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এম এ কাইয়ুম অভিযোগ করেন, পোস্টাল ব্যালটের নাম করে তাকে হারানো হয়েছে। তাই তিনি ফল বাতিলের আবেদন করেছেন।
ঢাকা-১৬ আসনে ২ হাজার ৬১৬ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট, আর বিজয়ী জামায়াতের কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৩ ভোট। এ আসনটিতেও বিএনপির আমিনুলের অবস্থান বেশ সুসংহত। এ জামায়াত অতীতে কখনোই এ আসনে জামানত রক্ষা করতে পারেনি। প্রথমবারের মতো এবারের প্রার্থীর চমকের পেছনে রয়েছে সামাজিক কাজ। স্থানীয়রা জানান, গত এক বছরে জামায়াতের আব্দুল বাতেন ব্যাপক সামাজিক কাজ করেছেন।
ঢাকা-৪ আসনে ২ হাজার ৯২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। ঢাকা-৪ আসনটিও বিএনপির শক্ত ঘাঁটির মধ্যে একটি। বিএনপির পরাজিত প্রার্থী রবিনের বাবা সালাহ উদ্দিন আহমেদ অতীতে এ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হন। তবে রবিনের বিপক্ষে দলের একটি পক্ষ ভেতরে ভেতরে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে বেশিদিন বিচরণ না করলেও ক্লিন ইমেজের কারণে উতরে গেছেন বলে মনে করেন বেশিরভাগ ভোটার।
যে কারণে জামায়াতের ৬ হেভিয়েটদের হার
বিএনপির মতো জামায়াতেরও কয়েকজন আলোচিত নেতা পরাজিত হয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা-৫ আসনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। সেখানে বিএনপির আলী আসগর লবী ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। খুলনা-৫ (ফুলতলা, ডুমুরিয়া) আসনটি মূলত হিন্দু অধ্যুষিত। অতীতে আওয়ামী লীগের পঞ্চানন বিশ্বাস একাধিকবার সেখান থেকে জয়ী হয়েছেন। বিএনপি সেখানে খুব একটা ভালো করতে পারেনি। তবে তাদের একটি রিজার্ভ ভোট আছে। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে সব সময়ই থাকতো জামায়াত। এর মধ্যে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হন পরওয়ার। সেই থেকে ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও জোটের মনোনয়ন পান তিনি। এসব নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। এবার বিএনপি পাশের আরেকটি আসনের আলী আসগর লবীকে মনোনয়ন দেয়। যদিও আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে হিন্দু ভোটাররা লবীকে জয়ী করলেও গোলাম পরওয়ার হেরে যান মাত্র দুই হাজার ভোটে।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার-২ আসন থেকে পরাজিত হন। তিনি পান ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। ২০০৮ সালে সেখান থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন আযাদ। এবার ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বিএনপির আলমগীর মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। এ আসনটিও বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি। তবে জামায়াতেরও একটা ভোট ব্যাংক এখানে আছে। ২০০৮ সালে জোটের মনোনয়নে প্রথম নির্বাচন করেই জয়ী হন হামিদুর রহমান আযাদ। পরবর্তী ২০১৮ সালে তিনি জোটের প্রার্থী হিসেবে হেরে যান। এবারও হারলেন।
ময়মনসিংহ-৫ আসনে ১ লাখ ৮৭৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান আকন্দ। সেখানে ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন। আসনটিতে সব সময়ই ঘুরেফিরে বিএনপি বা আওয়ামী জয়ী হয়েছে। জামায়াত ভোট পেতো হাতেগোনা। তবে পরাজিত হলেও এবার রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়েছেন মতিউর রহমান আকন্দ।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির ৬৩ হাজার ২২০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। বিএনপির নাছির উদ্দীন চৌধুরী ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এ আসনটিও হিন্দু অধ্যুষিত। অতীতে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এ আসনটি থেকে ৯১ থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৫ বার নির্বাচিত হন । তার মৃত্যুর পর স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত ১৮ ও ২৪ সালে নির্বাচিত হন। এবারের জয়ী বিএনপির নাছির চৌধুরী একবার ১৯৯৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন। জামায়াত সে বছর সর্বশেষ নির্বাচন করে ভোট পায় মাত্র ১ হাজার ১০৪ জন। ৫ আগস্টের পর জামায়াতের শিশির মোহাম্মদ মনির হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক কাজ করেছেন— যা দেশব্যাপী আলোচনা তৈরি করে।
সিলেট-৬ আসনে ৯৭ হাজার ৭৪৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন। সেখানে বিএনপির এমরান চৌধুরী ১ লাখ ৮হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
এ আসনটিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরেও কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক প্রচুর ভোটার রয়েছে। পাশাপাশি মাওলানা লতিফ ফুলতলীর অনেক সমর্থক রয়েছেন। আদর্শিক কারণে তারা জামায়াতের ঘোরতরবিরোধী। তাই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেলেও প্রতিবারই তীরে এসে তরী ভিড়ে যায় দলটির।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করীম ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। আর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এ আসনটিও বিএনপির অন্যতম ঘাঁটি। তবে এবার জামায়াত হারলেও ভোটের অবস্থানে বেশ জানান দিতে পেরেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘কিছু আসনে আমাদের শীর্ষ নেতাদের হারের বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করছি। দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’’
তারপরও আলোচনায় এনসিপির ৬ কেন্দ্রীয় নেতা
প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেই বাজিমাত করেছে তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ ৬ শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলী মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। আর বিএনপির ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ হাজার ভোটে জয়লাভ করেন।
এ আসনটিতে টানা কয়েকবার পাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ব্যারিস্টার জমীর উদ্দিন সরকার। এবার নির্বাচন করে জয় লাভ করেছেন তার ছেলে নওশাদ। এখানে জামায়াতের ভোট ব্যাংক ও জাতীয় গণতান্ত্রিক দল-জাগপার প্রয়াত সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের কিছু ভোট আগে থেকেই আছে। পাশাপাশি সার্জিসের পরিচিতি তাকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল।
কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। অপরদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
ঢাকার প্রবেশদ্বার এ আসনটিতে পাটওয়ারীর তেমন জনশক্তি ছিল না। জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি আর হাদির মৃত্যুর কারণে ‘সহানুভূতির’ ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় পাটওয়ারীর।
ঢাকা-১৮ আসনে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব ঢাকা-১৮ আসনে ১ লাখ ৮ হাজার ৫০৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। আর বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ আসনটিতেও এনসিপির কেউ শুরুতে ছিল না। এখানের প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুল ইসলাম আদিব প্রথমে ঢাকা ১৫ আসনে প্রচারণা চালালেও শেষ সময়ে জামায়াত তাকে সেখানে মনোনয়ন দেয়। তারপরও অল্প দিনের প্রচারণা লাখের বেশি ভোটকে অনেকে সম্মানজনক হিসেবে দেখছেন।
ঢাকা-৯ আসনে যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। আর বিএনপির হাবিবুর রশিদ ১ লাখ ১২ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এটিও এনসিপির জন্য নতুন মাঠ। তারপরও স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছেন দলীয় সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা। এরপর অর্ধলক্ষাধিক ভোট পেয়েছের জাবেদ রাসিন।
নরসিংদী-২ আসনে ১৪ হাজার ৫৬৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ৫৭ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অবশ্য সেখানে ৩৬ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় জামায়াতের আমজাদ হোসেন।
এ আসনটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিলো। ১১ দল থেকে তুষারকে মনোনয়ন দেয় জামায়াত। তবে স্থানীয়রা তা মানতে পারেননি। তাই মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন দলীয় প্রার্থী আমজাদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন নেতাকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত দাঁড়িপাল্লা ও এনসিপির প্রতীক থেকে যায়। এ নিয়ে নানা দেনদরবারে জামায়াত নেতাকর্মীদের মন গলাতে পারেননি তুষার। সর্বশেষ হেরে যাওয়ার পর তিনি স্থানীয় জামায়াতকে মোনাফেক আখ্যায়িত করেন।
এছাড়াও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ ১ লাখ ৩ হাজার ৮২৪ ভোট পেয়ে হেরে যান। অপরদিকে বিএনপির এম এ মুহিত ১ লাখ ৭১ হাজার ৭১ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রথম নির্বাচনে লাখের বেশি ভোট অর্জন করায় আলোচনায় রয়েছেন সাইফ মোস্তাফিজ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-৯ আসনে শাপলা কলি প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী জাবেদ রাসিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের নানা অভিযোগ থাকলেও ফল মেনে নিয়েছি।’’ ইতোমধ্যে বিজয়ী প্রার্থীকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।








