প্রশাসনিক জীবনের কর্মদক্ষতা, মেধা ও প্রশাসনিক বিচক্ষণতার স্বাক্ষর রেখে অবশেষে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে স্থান করে নিয়েছেন সাবেক সচিব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। একসময় সিভিল সার্ভিস থেকে অবসর নেওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্ত হওয়া এ সাবেক আমলা সর্বশেষ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দলের সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, আমান উল্লাহ আমান ও ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারকেও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে যুক্ত করা হয়েছে।
মেধাবী শিক্ষাজীবন ও সিভিল সার্ভিসে যোগদান
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোক্তার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। শিক্ষক বাবার সন্তান ইসমাইল জবিউল্লাহর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় রামগতির শান্তিরহাট প্রাইমারি স্কুল থেকে। তিনি ১৯৬৫ সালে লক্ষ্মীপুর সামাদ একাডেমি থেকে বোর্ড স্ট্যান্ড এবং ১৯৬৭ সালে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে তৃতীয় বোর্ড স্ট্যান্ড করেন।
পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করলেও ১৯৭৩ সালে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফলভাবে পাস করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিভিল সার্ভিসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
বর্ণাঢ্য প্রশাসনিক ক্যারিয়ার ও সচিব পদে দায়িত্ব পালন
বর্ণাঢ্য প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে ইসমাইল জবিউল্লাহ ১৯৮৬ সালে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ১৯৯৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের কনসুলার এবং ২০০২ সালে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৪ সালে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মনোনীত হন। পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির সচিব এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান এই প্রভাবশালী আমলা।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন
সৌদি আরবে অবস্থিত ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) নির্বাহী পরিচালক; ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) চেয়ারম্যান; বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান; ফিলিপাইন্সে অবস্থিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিকল্প গভর্নর এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বিকল্প চেয়ারম্যান। ২০২২ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে নিবন্ধিত আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
বিএনপির রাজনীতি ও নির্বাচন পরিচালনায় ভূমিকা
সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বিএনপি সমর্থক সাবেক আমলা হিসেবে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদে যুক্ত হন। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদার উপদেষ্টা
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ১০ জন উপদেষ্টার মধ্যে তিনি পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। কমলনগরের এই কীর্তিমান সন্তান পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাওয়ায় তার নিজ এলাকা চরকাদিরা গ্রামসহ সমগ্র লক্ষ্মীপুরে আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটিতে’ অন্তর্ভুক্তি
শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন ৪ জন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার মধ্যে অন্যতম নাম মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। দলের সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাবেক এই প্রভাবশালী আমলা ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রাক্তন আমলা থেকে রাজনীতির শীর্ষপর্যায়ে আসা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ তার মেধা ও বিচক্ষণতার দ্বারা সুচিন্তিত পরামর্শের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।









