সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করার পরপরই প্রকাশ্যে আসেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ‘নিষিদ্ধ’ থাকলেও, সেদিনের পর থেকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সারা দেশে ছুটে বেড়াচ্ছেন শফিকুর রহমান।
কখনও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের বাড়ি, কখনও নাশকতার মুখে পড়া গণমাধ্যমের কার্যালয়ে। এর মধ্যে চলেছে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও।
সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় ছুটে যান জামায়াতের আমির। এসব এলাকার বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। করেন পথসভাও।
এসব তৎপরতায় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যও দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুনে আসছি, প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। কথিত বন্ধু ভারত ফারাক্কাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীতে বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের বিশাল এলাকা মরুভূতিতে পরিণত করেছে। ভারত শুকনা মৌসুমে পানি আটকে রাখে, আর বর্ষায় মৌসুমে রাতের আঁধারে সব গেট খুলে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মে যখন আমাদের পানির প্রয়োজন হয়, তখন তারা আমাদের পানি না দিয়ে শুকিয়ে মারে। পানির অভাবে হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে যখন পানির প্রয়োজন নেই, তখন পানি ছেড়ে দিয়ে আমাদের বন্যায় ভাসায়। ভারত সরকারের এই অমানবিক কর্মকাণ্ডে আমরা হতবাক। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, ভারত আমাদের কেমন বন্ধু?’
তিন জেলা সফরকালে আমিরে জামায়াত অসহায় বানভাসি ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরে আশ্রয়গ্রহণকারী মানুষের মাঝে খাদ্য ও আর্থিক সহযোগিতা দেন।
এদিন ফেনী জেলায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম, জেলা আমির এ কে এম শামসুদ্দিন, জেলা সেক্রেটারি মুফতি আব্দুল হান্নানসহ জেলা-উপজেলার সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
লক্ষ্মীপুরে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা দ্বীন মোহাম্মদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম, জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া, নায়েবে আমির এ আর হাফিজ উল্যাহ।
কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে সেনবাগ রাস্তার মাথা ও বেগমগঞ্জের চৌমুহনীসহ জেলার সব কটি উপজেলায় সাংগঠনিকভাবে প্রায় ৫ হাজার দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে ও দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবিরকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।









