বাংলাদেশের ঠেলাওয়ালা, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, চা-পান বিক্রেতাও পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি বোঝেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসময় তিনি নিজের দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে "মহান নেতা" আখ্যা দিয়ে বলেন, "তার নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।"
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর পল্টন মোড়ে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত গণমিছিল পূর্বক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ইভিএম একটি মেশিনের নাম, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) একটি পদ্ধতিগত দিক। যিনি বলেন, মানুষ ইভিএম বুঝে না আসলে তিনি না বুঝলেও বাংলাদেশের ঠেলাওয়ালা, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, চা-পান বিক্রেতাও পিআর পদ্ধতি বুঝেন। তিনিও পিআর পদ্ধতি ঠিকই বুঝেন কিন্তু বুঝাতে চান না। জাতির জন্য রাজনীতি করলে পিআর মেনে নিতে তিনি সব দলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ পিআর বুঝে না।
তিনি বলেন, একটি দল ক্ষমতায় গিয়ে সব সংস্কার মুছে দেওয়ার ঘোষণায় জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় আবির্ভূত হতে চায়। বাংলাদেশের জনগণ আর কোনও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হতে দেবে না।
জুন কিংবা ফেব্রুয়ারি যখনই নির্বাচন হোক, এর আগে সংস্কার ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান বলেছিলেন, জুনের পর তিনি একদিনও ক্ষমতায় থাকবেন না। পরবর্তীতে তিনি সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার পরবর্তীতে তিনি একটি দলের সাথে বিদেশের মাটিতে আলাদা বৈঠক করে আবার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা বলেছেন। নির্বাচন যখনই হোক আগে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বসে যেভাবে হ্যাঁ/না (গণভোট) ভোট দিয়ে নিজের ক্ষমতাকে বৈধতা দিয়েছেন। হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদও একইভাবে নিজের ক্ষমতাকে বৈধতা দিয়েছেন। সেভাবে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই ঘোষণাপত্রের বৈধতায় কারোই আপত্তি থাকার কথা নয়।"
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও অনেকে বক্তব্য দেন।









