শেখ হাসিনা এলে এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে: নাহিদ ইসলাম

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৯আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৯

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে এলে তাকে সরাসরি বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার এক দফা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যদি শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসে, সেই ডিসেম্বরে আসার জন্য যদি ব্যবস্থা তারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী) করে দেয়, তাহলে সেটার জন্য আপনারা (জুলাই যোদ্ধা ও আহত) প্রস্তুত আছেন তো? আমরা সবাই সেটার জন্য প্রস্তুত আছি; এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে, কোনও কথা হবে না। পুরা বাংলাদেশের জনগণ...সেদিন থাকবে বাংলাদেশের রাজপথে, ঢাকার রাজপথে; সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাবে। ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ থেকে ঘরে ফিরবো না।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘‘এক দফা’’ ছিল শুধু শেখ হাসিনার পতন নয়; বরং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা।’ তবে দুই বছর পরও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এক দফার আংশিক বাস্তবায়ন হলেও রাষ্ট্রসংস্কার, বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে।

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, শহীদ পরিবার এখনও বিচার পায়নি, আহত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন সম্পন্ন হয়নি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি, এক দফার লক্ষ্য পূরণ হলে এসব সমস্যার পুনরাবৃত্তি হতো না।

সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার বিচার ও সংস্কারের প্রশ্নে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গুম-খুনের বিচার এবং আন্দোলন– সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি থমকে আছে। আহত ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সুবিধাও কার্যকর নয় বলে দাবি করেন তিনি।

সংবিধান ও রাষ্ট্রসংস্কারের প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো বহাল রেখে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সংস্কারের উদ্যোগ ব্যাহত হলে নতুন সংবিধানের দাবিতে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সরকারের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। না হলে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হবে। জুলাই আন্দোলনের শহীদরা কোনও ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য জীবন দেননি; তারা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের প্রত্যাশায় আত্মত্যাগ করেছিলেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে বিতর্কের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগকে খাটো করার চেষ্টা চলছে।’ তবে জনগণ এখনও বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন বলে তার দাবি।

/এসও/আরকে/
সম্পর্কিত
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চোখে কেন ব্যান্ডেজ?
এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, টাকা আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব জায়গায় আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে: নাহিদ ইসলাম 
সর্বশেষ খবর
বালুভর্তি বস্তায় বোমা ঢুকলো কীভাবে, জায়গাটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ-র‌্যাব
বালুভর্তি বস্তায় বোমা ঢুকলো কীভাবে, জায়গাটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ-র‌্যাব
সেই জামায়াত নেতাকে স্বশরীরে তলব 
সেই জামায়াত নেতাকে স্বশরীরে তলব 
বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফরে চট্টগ্রামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফরে চট্টগ্রামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
সর্বাধিক পঠিত
জুলাই কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন, মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না: মাহফুজ আলম
জুলাই কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন, মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না: মাহফুজ আলম
দুবাইয়ে ভিজিট ভিসা স্পনসর করতে কত বেতন লাগবে
দুবাইয়ে ভিজিট ভিসা স্পনসর করতে কত বেতন লাগবে
৫ আগস্টের ছুটি কারা পাবেন, কারা পাবেন না
৫ আগস্টের ছুটি কারা পাবেন, কারা পাবেন না
কেন বাড়িঘর ফেলে চলে যাচ্ছেন টেকনাফের মানুষ, জনপ্রতিনিধিরাও আতঙ্কে
কেন বাড়িঘর ফেলে চলে যাচ্ছেন টেকনাফের মানুষ, জনপ্রতিনিধিরাও আতঙ্কে
বিনামূল্যে ১৪ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে ওমান
বিনামূল্যে ১৪ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে ওমান