গুম-খুনে জড়িত র‌্যাব-পুলিশ সদস্যদের বিচার হবে: খালেদা জিয়া

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৯ জুন ২০১৬, ২০:৪১আপডেট : ২৯ জুন ২০১৬, ২২:১৪




খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর যে সদস্যরা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের বিচার হবে।
বুধবার গুলশান-২ এ লংবিচ হোটেলে বিএনপির গুম ও খুন হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবার ও স্বজনদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। ইফতার মাহফিলে গুম হওয়া ৩৪ জনের পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরে এলে অবশ্যই গুম হওয়া ব্যক্তিদের খোঁজ করা হবে। আর র‌্যাব-পুলিশের যে সদস্যরা গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার হবে। গুম হওয়া ব্যক্তিকে ফেরানো না গেলেও বিচার হলে কিছুটা শান্তি হবে।’
বক্তব্যের শুরুতেই খালেদা জিয়ার চোখ অশ্রুসিক্ত ছিল। তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা এখনও নিজেদের স্বজনদের ফিরে আসার প্রত্যাশা করেন, আমরাও সে একই আশা নিয়ে আছি। তারা হয়তো একদিন আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। আবার আপনাদের যেমন মা-বাবা-ভাই-বোন বলে ডাকবে। আপনাদের আদর করবে। তেমনিভাবে দলের মধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে আমাদের আপন হয়ে থাকবে।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘ওরা দল করেছে। ওরা আপনাদের যেমন বাবা-মা জানে, তেমনি আমাকেও নেত্রী হিসেবে মায়ের মতোই দেখেছে। সন্তান হারানোর ব্যথা আমি বুঝি। আমার ছোট ছেলেকেও আমি হারিয়েছি।’

ক্রসফায়ারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ক্রসফায়ার আরও দুঃখজনক। একটা নিরীহ ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলা হলো। কথা নাই বার্তা নাই, তাকে মেরে ফেলা হলো। এইটা মেনে নেওয়া যায় না। দীর্ঘদিন জেল সহ্য করা যায়, কিন্তু অন্যায়ভাবে গুলি করে মেরে ফেলবে, এটা কখনও হয় না।’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপিপ্রধান বলেন, ‘আজকের এই আওয়ামী লীগ এরা জালিম, খুনি। এরা গুপ্তহত্যাকারী। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করব যেন এদের বিচার হয়। বিচার যেন খুব শিগগিরই করে, দুনিয়াতে করে, যাতে মানুষ দেখে যেতে পারে, মানুষ দেখতে পারে, এমন বিচার হয় যেন। ভবিষ্যতে এমন কাজ যেন কেউ না করে। আমরা শুধু তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছি। তারা ফিরে আসুক।’

খালেদা জিয়ার দাবি, তার দলের প্রত্যেকের নামে মামলা। এখন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে গণগ্রেফতার। সেই অভিযানে এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রায় ৪ হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। এই সরকারের টার্গেট হলো বিএনপি। বিএনপিকে কেমনভাবে ধ্বংস করা যায়, সরকারের চিন্তাই সেরকম।’

ইফতার মাহফিলে বংশাল এলাকার বিএনপির কর্মী পারভেজ হোসেনের কন্যা ঋদি হোসেন বলেন, আমার বাবার ছবি গলায় দিয়ে আর ভালো লাগে না। আমি বাবার হাত ধরে হাঁটতে চাই। আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও। বাবাকে ছাড়া ঈদ করতে ভালো লাগে না।

গুম হওয়া এক নেতার ছোট ছেলে আহাদ বলেন, ‘আমি চাই, আমার বাবা আমার হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যাবে।’

বিমানবন্দর এলাকার বিএনপির নেতা নিজামুদ্দীনের বাবা শামসুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমার ছেলেকে এবং যাদের ছেলেকের গুম করা হয়েছে, তাদের ছেলেকে গুম না করলে হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এটা মনে করেই তাদের গুম করা হয়েছে।’

ইফতার মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এসটিএস/এজে

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী