ক্ষমতাসীনদের জোটে যেতে চায় ইসলামিক ফ্রন্ট

সালমান তারেক শাকিল
০৪ মে ২০১৭, ০০:২১আপডেট : ০৪ মে ২০১৭, ২০:৫৮

 

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে যেতে চায় ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। ইতোমধ্যেই জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী। তার প্রত্যাশা শিগগিরই ক্ষমতাসীন জোটের শরিক হিসেবে নাম লেখাবেন তারা। তবে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের  দু’জন নেতা জানান, ফ্রন্টের যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী বুধবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ১৪ দলীয় জোটে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও জোটের সমন্বয়ক মো. নাসিমের সঙ্গে আমাদের একাধিকবার কথা হয়েছে, বৈঠক হয়েছে। শিগগিরই  আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেব।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।’

তবে ক্ষমতাসীন দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ‘ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে পৃথক জোট গঠনের পরামর্শ দেব আমরা। এক্ষেত্রে ইসলামিক ফ্রন্টের ১৪ দলীয় জোটে শরিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।’

এ ব্যাপারে ১৪ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এমএ আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফ্রন্ট ১৪ দলে আসবে, এ নিয়ে জোটে কোনও আলোচনা হয়নি। আমরা জানি না। তাদের জোটে নেওয়া হলে নিশ্চয় শরিকদের মতও চাওয়া হবে।’

কয়েকটি রাজনৈতিক দল সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে আগে জোট গঠনের বিষয়ে দলগুলো মরিয়া হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক একাধিক দল চায় আওয়ামী লীগের জোটে যোগ দিতে। যদিও ক্ষমতাসীনরা মনে করে, নির্বাচনি কৌশলের স্বার্থেই ধর্মভিত্তিক দলগুলোর পৃথক জোট করা প্রয়োজন। এ কারণে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যজোটে যোগ দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

ইসলামিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী বলেন, ‘আমরা এরশাদের জোটে যাব না। ১৪ দলীয় জোটেই যাব। ওই জোটে ইসলামি ফ্রন্ট যাবে বলে শুনেছি।’ তবে এই প্রসঙ্গে ইসলামি ফ্রন্টের মহাসচিব এমএ মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এরশাদ না ১৪ দলীয়  জোটে যোগ দেব, তা বৃহস্পতিবার ঠিক করা হবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের শেষের দিকে বিকল্প রাজনৈতিক জোট হিসেবে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের ৭টি দলের সঙ্গে চারটি দল মিলে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়। ২০০৪ সালে ৯ দফা দাবিতে ১১ দল, আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (মোজাফফর) ও জাসদ মিলে একসঙ্গে কর্মসূচি পালন শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন যোগ দেয় এই জোটে।

/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
কালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীদের জন্য সুখবরকালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী