গ্যাসের দাম ৩২.৮ শতাংশ বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে পারে বাম রাজনৈতিক দলগুলো। রবিবার (৩০ জুন) গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরই দলগুলো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, অনৈতিকভাবে সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। অনতিবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে এ সপ্তাহেই হরতাল দিতে পারে, এমন কথা জানিয়েছেন একাধিক বাম নেতা।
বাম নেতারা জানান, আগামীকাল (১ জুলাই) সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করবে কয়েকটি দল। এর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলন বিকাল সাড়ে চারটায় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করবে। বিস্তারিত কর্মসূচি ঠিক করতে সোমবার সকাল ১১টায় বৈঠকে বসবে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এ জোটে সিপিবি-বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টিসহ আটটি দল রয়েছে। এ বৈঠক থেকেই কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন জোটের দুই অন্যতম নেতা।
জোটের শরিক বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানো করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যে গণশুনানি হয়, সেটিও ‘তামাশায়’ পরিণত করা হয়েছে। বিতরণ সংস্থা এবং গ্যাসের সরবরাহ যারা করে, তারা কোনও যুক্তি দেখাতে পারেনি কেন গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে আমরা হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছি। কাল (সোমবার) আমাদের জোটের বৈঠক রয়েছে। সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ সাইফুল হক জোর দিয়েই বলেন, ‘সরকারকে এ ব্যাপারে ব্যাক করতে হবে।’
এর আগে, রবিবার বিকালে (৩০ জুন) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশন জানায়, গ্যাসের দাম ৩২.৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ১ জুলাই থেকে এই দাম কার্যকর হবে। এই দাম অনুযায়ী এক চুলার জন্য গ্রাহকদের ৭৫০ টাকার বদলে ৯২৫ টাকা এবং দুই চুলার গ্রাহকদের ৮শ’ টাকার বদলে ৯৭৫ টাকা করে গুনতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আবাসিকে প্রিপেইড মিটারে প্রতি ঘনমিটার ১২.৬০ টাকা, এক চুলার গ্যাসের দাম ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২৫ টাকা ও দুই চুলার গ্যাসের দাম ৮শ’ টাকা থেকে ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে বিক্ষোভ করেছে বাসদ। আগামীকাল সাড়ে চারটার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ডেকেছে গণসংহতি আন্দোলন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘গ্যাসের এমন দাম বাড়ানো অযৌক্তিক ও সরকারের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত। দেশের মাটি ও সাগরের নিচের গ্যাস উত্তোলন ও অনুসন্ধান না করে, দুর্নীতি ও সিস্টেম লস বন্ধ না করে, বেশি দামি ও আমদানি নির্ভর এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো হচ্ছে এবং এলএনজি ব্যবসায়ীদের সুবিধা করার জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ১০২ ভাগ মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বিতরণ কোম্পানিগুলো। এরপরেই মার্চ মাসে বিইআরসি গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর জন্য গণশুনানির আয়োজন করে। সেখানে মূল্য বাড়ানোর পক্ষে যৌক্তিক কারণ তারা উত্থাপন করতে পারেনি। সমস্ত যুক্তি-তর্ক-মতামত-বিশ্লেষণকে ঠেলে ফেলে দিয়ে অত্যন্ত স্বেচ্ছাচারী কায়দায় আজ বিকালে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।








