জাপায় সাদ এরশাদের পদ কী?

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ১৯:৩১, জানুয়ারি ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১৯, জানুয়ারি ১৮, ২০২০

সাদ-এরশাদজাতীয় পার্টি (জাপা)’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সন্তান রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদকে গত ১৫ জানুয়ারি দলের কো-চেয়ারম্যান মনোনীত করেন তার মা পার্টির চিফ প্যাট্রন রওশন এরশাদ। এরপর শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) তাকে পার্টির যুগ্ম মহাসচিব পদে পদায়ন করেন তার চাচা ও দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। জাপায় সাদ এরশাদের পদ-পদবি নিয়ে তার মা ও চাচার ঘোষণা-পাল্টা ঘোষণার পর এখন প্রশ্ন উঠছে—পার্টিতে তার পদ কী? 
এরশাদের মৃত্যুর পর তার শূন্য (রংপুর-৩) আসনে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন সাদ। নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করে এমপি হওয়ার পাশাপাশি দলের যুগ্ম মহাসচিবও নির্বাচিত হন।
এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর জাপার নবম জাতীয় সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তার চাচা জিএম কাদের।  আর মা রওশন এরশাদকে করা হয় ‘চিফ প্যাট্রন’। জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ৭ জনকে কো-চেয়ারম্যান, ৮ জনকে অতিরিক্ত মহাসচিব ও ৩৭ জনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করলেও সাদ এরশাদকে কোনও পদ দেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৫ জানুয়ারি সাদকে কো-চেয়ারম্যান করে ১৬ জনকে দলের বিভিন্ন পদে পদায়ন করেন রওশন এরশাদ। তবে, রওশন এরশাদের দেওয়া ১৬ জনের পদায়নকে অনৈতিক বলে অভিযোগ করেছেন জিএম কাদের।

সাদ এরশাদকে দলের কো-চেয়ারম্যান করে রওশনের ঘোষণার ৩ দিন পর শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের তার ক্ষমতাবলে ৮ জন উপদেষ্টা, ৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৪ জন যুগ্ম মহাসচিবের নাম ঘোষণা করেন। এরমধ্যে সাদ এরশাদকে করেন যুগ্ম মহাসচিব। আর ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—সাদ এরশাদ পার্টির কো-চেয়ারম্যান, না যুগ্ম মহাসচিব?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদের তার প্রেস সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায়ের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

জানতে চাইলে সুনীল শুভ রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে সাদ এরশাদের পদবি যুগ্ম মহাসচিব। তিনি আগেও এই পদে ছিলেন।’

সাদকে জাপার কো-চেয়ারম্যান হিসেবে রওশন এরশাদের ঘোষণা প্রসঙ্গে সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘পার্টিতে পদ দেওয়ার ক্ষমতা শুধু চেয়ারম্যানের। অন্য কেউ পদ দিতে পারবেন না। সুতরাং রওশন এরশাদ কাউকে পদ দিলেও সেটিও গ্রহণযোগ্য হবে না।’

তবে, এ বিষয়ে রওশন এরশাদ ও সাদ এরশাদের কোনও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এই দুইজনকে একাধিকবার ফোন করে ও মেসেজ দিলেও জবাব পাওয়া যায়নি।

রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী বলেন, ‘পার্টির গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানকে সব ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। রওশন এরশাদ যে ১৬ জনকে পদায়ন করেছেন, সেটি গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। তিনি চিফ প্যাট্রন হিসেবে চেয়ারম্যানের কাছে তাদের নাম সুপারিশ করতে পারতেন।’

দলের গঠনতন্ত্রে চিফ প্যাট্রনের ক্ষমতা কী—জানতে চাইলে ফয়সল চিশতী বলেন, ‘এটি সম্মানজনক পদ।’

রওশন এরশাদ কাউকে দলে পদায়ন করতে পারেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘দলে সবার ঊর্ধ্বে তার অবস্থান। সভা-সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করবেন। দলের পতাকা তিনিই ব্যবহার করবেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্বাহী ক্ষমতা রওশন এরশাদের নেই। গঠনতন্ত্র মতে এই ক্ষমতা চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে।’

তাহলে দলে সাদ এরশাদের পদবি কী—জানতে চাইলে রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান তাকে যুগ্ম মহাসচিব করেছেন। এটিই তার পদবি। রওশনের দেওয়া কো-চেয়ারম্যান পদবি গ্রহণযোগ্য নয়।’

একইভাবে রওশন এরশাদের তালিকায় অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য। আর জিএম কাদেরর তালিকায় তিনি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। রওশন এরশাদের প্রেসিডিয়াম সদস্যের তালিকায় ছিলেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। কিন্তু জিএম কাদেরের তালিকায় তিনি কোথাও নেই।
অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন গত কমিটিতেও প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাদের দল, তারা যা খুশি তা করছেন। সকালে এক সিদ্ধান্ত, বিকালে আরেক সিদ্ধান্ত। কেন তারা এগুলো করছেন, নিজেরাই ভালো বলতে পারবেন। এখন তাহলে আমার পদ কী? সাদ এরশাদের পদ কী? জনগণ কীভাবে জানবে?

১৭ জানুয়ারি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘চেয়ারম্যান জিএম কাদের পার্টির নবম জাতীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত এবং গঠনতন্ত্রের ধারা ১২-এর ৩ উপধারা অনুযায়ী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আরও ৮ জন উপদেষ্টা, ৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৪ জন যুগ্ম মহাসচিবের নাম ঘোষণা করেছেন। এই নিয়ে পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদে সদস্যের সংখ্যা ২৯ উন্নীত হলো।’

বিজ্ঞপ্তিতে সুনীল শুভ রায় বলেন, ইতোপূর্বে ৯ জন উপদেষ্টার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ২০ জন উপদেষ্টার হলেন অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান (কুমিল্লা), একেএম মোস্তাফিজুর রহমান (কুড়িগ্রাম), মো. সেলিম উদ্দিন (সিলেট), হাসান সিরাজ সুজা (মাগুরা), মো. নোমান (লক্ষ্মীপুর), সোমনাথ দে (বাগেরহাট), এমএম নিয়াজ উদ্দিন (গাজীপুর), আশরাফ উদ দৌলা (কুড়িগ্রাম), এম.এ. কুদ্দুস খান (ঝালকাঠি), মাহমুদুর রহমান মাহমুদ (লক্ষ্মীপুর), জিয়াউল হক মৃধা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মো. লুৎফর রহমান চৌধুরী (গাইবান্ধা), এম.এ. তালহা (নাটোর), দেলোয়ার হোসেন (দিনাজপুর), মো. নুরুল ইসলাম মিলন (কুমিল্লা), গিয়াস উদ্দিন (সিলেট), একরামুল হক (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), সরদার শাহজাহান (পাবনা), মো. আতাউর রহমান সরকার (গাইবান্ধা) এবং জহিরুল আলম রুবেল (ঢাকা)।

৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যান হলেন, মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম (চট্টগ্রাম), মাহ্জাবিন মোরশেদ (চট্টগ্রাম), শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (বগুড়া), সালাউদ্দিন আহমেদ (নোয়াখালী), শামসুল আলম মাস্টার (চট্টগ্রাম), হাজী আবু বকর (ঢাকা), মো. আরিফুর রহমান খান (গাজীপুর), দেওয়ান আলী (ঢাকা), বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল (ঢাকা), অধ্যাপক মহসিন ইসলাম হাবুল (বরিশাল), আমানত হোসেন আমানত (ঢাকা), নজরুল ইসলাম (চট্টগ্রাম), মেজর (অব.) মো. আব্দুস সালাম (কুড়িগ্রাম), ডা. রুস্তম আলী ফরাজী এমপি (পিরোজপুর), নিগার সুলতানা রানী (রংপুর), মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক (ঢাকা), আলহাজ দিদারুল কবির দিদার (চট্টগ্রাম), শফিকুল ইসলাম শফিক (নরসিংদী), আহসান আদেলুর রহমান এমপি (নীলফামারী), গাফ্ফার বিশ্বাস (খুলনা), সিরাজুল ইসলাম (লক্ষ্মীপুর), মোস্তফা আল মাহমুদ (জামালপুর), আব্দুর রউফ মানিক (রংপুর), শফিকুল ইসলাম মধু (খুলনা), শেখ আলমগীর হোসেন (গোপালগঞ্জ), নুরুল ইসলাম ওমর (বগুড়া), সুলতান আহমেদ সেলিম (ঢাকা), মোবারক হোসেন আজাদ (নোয়াখালী), রাকিবা নাসরিন (রংপুর), আবুল মাকসুদ চৌধুরী নান্টু (রংপুর), মিসেস সালমা হোসেন (ঢাকা), আশরাফ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল), তোফাজ্জল হোসেন (নওগাঁ), শফিউল্লাহ শফি (চাঁদপুর), শাহ-ই আজম (নরসিংদী), মৌলভী মো. ইলিয়াস (কক্সবাজার) এবং পনির উদ্দিন আহমেদ এমপি (কুড়িগ্রাম)।

১৪ জন যুগ্ম মহাসচিব হলেন, গোলাম মোহাম্মদ রাজু (মুন্সীগঞ্জ), ইয়াহ হিয়া চৌধুরী (সিলেট), নুরুল ইসলাম দীপু (গাজীপুর), মো. নোমান মিয়া (মুন্সীগঞ্জ), এস.এম. ইয়াসির (রংপুর), আমিনুল ইসলাম ঝন্টু (সিরাজগঞ্জ), আমির উদ্দিন আহমেদ ঢালু (ঢাকা), অ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু (ঢাকা), রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ (রংপুর), মো. শামসুল হক (ঢাকা), আব্দুল হামিদ ভাসানী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু (হবিগঞ্জ), মো. আমির হোসেন (কুমিল্লা) ও ইকবাল হোসেন তাপস (বরিশাল)।

/এমএনএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ