আদালতকে প্রভাবিত করতে চায় না সরকার: ওবায়দুল কাদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৩৪, জানুয়ারি ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫২, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

কারাবন্দি চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সরকার আদালতকে প্রভাবিত করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীতে ব্র্যাকের আয়োজনে নারী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ পরবর্তী সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা বিশেষ আবেদনের কথা বলছেন, তারা আসলে আবেদন কার কাছে করবেন—আদালত নাকি সরকারের কাছে? খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন আদালতের এখতিয়ারে; এটা সহমর্মিতা-সহানুভূতির বিষয় নয়, এটা লিগ্যাল ব্যাপার।’
খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা বা সহানুভূতির ঘাটতি নেই দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কিন্তু এক্ষেত্রে সহানুভূতির কথা বলে তো আমরা আদালতকে প্রভাবিত করতে পারি না।’
খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে তার পরিবার বিশেষ আবেদন করবে বলে জানিয়েছে। যদি পরিবার আবেদন করে সেক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কী হতে পারে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশেষ আবেদন আদালতে নাকি সরকারের কাছে করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটা আমরা জানিও না, আর সরকারের কাছে আবেদনের বিষয়ও নয়।’
তিনি দাবি করেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা বা সহানুভূতির ঘাটতি নেই, খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সহানুভূতির কথা বলে তো আমরা আদালতকে প্রভাবিত করতে পারি না, সহমর্মিতা দিয়ে আইনকে প্রভাবিত করাও যায় না।’
বিএনপির অভিযোগ সরকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জেতার জন্য সবকিছু ব্যবহার করছে। এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা উল্টো চিত্রটাই জানি। বিএনপি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় আছে।’ বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য নানামুখী অজুহাত খুঁজছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপিকে তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা কোথায় কোথায় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন দেখছেন, সেটা তো প্রমাণ করতে হবে। দেশবাসী সেটা জানুক। শুধু মনগড়া কথা বললে তো হবে না।’
অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো বক্তব্য দিলে তো হবে না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমি পার্টির সেক্রেটারি। একটা অফিসেও আমি আজ পর্যন্ত যাইনি। তাহলে কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, আমি জানি না। শুধু বললেই হবে না, তথ্য-প্রমাণ দিক।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা চাইলেই ইভিএমের মাধ্যমে জালিয়াতি করতে পারবেন এবং কাউন্সিলরদের সমর্থন দিয়ে প্রত্যেকটি দলের নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সদ্যসমাপ্ত চট্টগ্রাম আর উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। আবার বগুড়া দুপচাঁচিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। যদি ইভিএমে কারচুপি করার সুযোগ থাকে এবং নির্বাচন নিয়ে কোনও জালিয়াতি হয়, তাহলে চট্টগ্রাম উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম কেন? সরকারের যদি এখানে খারাপ কোনও উদ্দেশ্য থাকতো তাহলে তো নির্বাচনে উপস্থিতির সংখ্যা বেড়ে যেতো। নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এমন অভিযোগ যুক্তিহীন।’
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন ইভিএম পদ্ধতিতে হয়েছে তারা বলুক কোন জায়গায় কখন কীভাবে নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে, একটা অন্তত তারা উল্লেখ করুক।’ কোনও তথ্য-প্রমাণ নেই, তারা শুধু বলার জন্য বলেই যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/এএইচআর/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ