যে কোনও শর্তেই খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় বিএনপি

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২৩:৫০, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৫, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে

যে কোনও শর্তেই কারাবন্দি চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় বিএনপি। তাই আবারও তার মুক্তির বিষয়ে আইনি উদ্যোগ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দলটি। বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার সম্মতি নিয়েই মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। যে কোনও মূল্যে তার চিকিৎসা করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে জামিন আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও তার জামিন ইস্যুতে অনমনীয় সরকার। সেই ক্ষেত্রে জামিন না হলে প্যারোল মুক্তি ছাড়া কোনও উপায় নেই।    

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের দাবি, খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের হাতে। সেক্ষেত্রে জামিন বা প্যারোলের বাইরে অন্য কোনও উপায়ে তার মুক্তির সম্ভাবনা নেই। দলের পক্ষ থেকে ন্যূনতম রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এই মুহূর্তে অসম্ভব। সেটা ম্যাডামও (খালেদা জিয়া) গত ২ বছরে বুঝতে পেরেছেন। ফলে তিনি নিজের ইচ্ছায় হোক বা আমাদের চাপের কারণে হোক চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে রাজি হয়েছেন। তবে দলের একটি অংশ মনে করেন, প্যারোলে তিনি মুক্তি নিলে এতদিনের আপসহীন নেত্রীর উপাধি এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। সরকার তার প্যারোল নিয়েও রাজনীতি শুরু করবে।    

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একটা রাজনৈতিক মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। ফলে তার জামিনে মুক্তির বিষয়টিও রাজনৈতিক। তাই সরকারের ক্লিয়ারেন্স পেলেই আদালতে তার জামিন হবে। আমরা আশা করবো, আদালতের ওপর সরকার হস্তক্ষেপ করবে না।  

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চিকিৎসার প্রয়োজনেই ম্যাডাম খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাবেন। অন্য কোনও কারণে তো তিনি দেশের বাইরে যাবেন না। এর আগেও তিনি লন্ডনে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকরাই বলেছেন, তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। যা এখানে সম্ভব নয়। বিদেশে তার চিকিৎসা করাতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু বলেন, ম্যাডামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তো দল আবেদন করতে পারে না। প্যারোলের আবেদন করতে হলে তার পরিবারকে করতে হবে। প্যারোলে তিনি মুক্তি নেবেন কেনা সেটাও পরিবারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দল হিসেবে বিএনপি তার মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে তো এভাবে জেলে পচতে দেওয়া যাবে না। সেজন্য আমরা চাই যে কোনও শর্তেই হোক তিনি মুক্তি পান, চিকিৎসা নিন। কারণ দল হিসেবে আমরা তার মুক্তির দাবিতে কার্যকর কিছু করতে ব্যর্থ হয়েছি।’

তবে খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার এবং তার মুক্তির জন্য প্যারোলের আবেদন করা নিয়ে কথা বলতে চায় না তার পরিবারের সদস্যরা। খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে রাজি কিনা জানতে চাইলে তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করবো না। তার মুক্তির জন্য পরিবারে পক্ষ থেকে প্যারোলের আবেদন করা নিয়েও কথা বলতে তিনি রাজি হননি।  

বিএনপির স্থায়ী কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তো দরকার। মূল তো চিকিৎসাটা। জামিন দিলে যেখানে যেতে বলে আর কী। জামিন বা প্যারোল হোক মুক্ত হয়ে তাকে চিকিৎসা নিতেই হবে। এখন লন্ডন বা আমেরিকায় চিকিৎসা তো নিতে হবে তাকে। বিদেশে যেতে রাজি না থেকে এখন তার উপায় কী?

বিদেশে যাওয়া বা প্যারোল নিয়ে খালেদা জিয়ার মনোভাব কী জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, ‘‘পরিবারের সদস্য এবং চিকিৎসকরা তার সঙ্গে দেখা করে মনোভাব জানতে চেয়েছেন। তখন উনার বক্তব্য হচ্ছে, ‘আপনার যা করেন আর কী। ভালো জন্য যা করবেন আমি রাজি।’’

তাহলে বিদেশে যেতে এবং প্যারোলের বিষয়ে খালেদা জিয়ার সায় আছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই নেতা বলেন, ‘তার সায় আছে বলতে পারেন। আবার এটাও বলতে পারেন যে আমরাই জোর করে তাকে রাজি করাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে ফের হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে এই আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন করা হয় বলে জানিয়েছেন তার অন্যতম আইনজীবী সগীর হোসেন লিওন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজকে জামিন আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বুধবার তা কোর্টে তুলবো আমরা। আশা করছি, তিনি এবার জামিন পাবেন।’

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেন আদালত। ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে এ মামলার সাজা বাড়িয়ে সাত বছর করে উচ্চ আদালত। এছাড়াও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাতেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এ কারাদণ্ডাদেশ বাতিল চেয়ে তার আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আবেদন করলে বিচারক সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা চলছে। দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে গত বছরের ১ এপ্রিল নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো কারাগার থেকে এনে শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ( বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

আরও পড়ুন: 

লন্ডন যেতে জামিনে মুক্তি চান খালেদা জিয়া

 

 

 

/এএইচআর/ টিএন/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ