পাটকল বন্ধ করা চরম নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ: জোনায়েদ সাকি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:২৫, জুলাই ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৭, জুলাই ০১, ২০২০

গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, এই করোনাকালে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে ৫০ হাজার শ্রমিককে কর্মহীন করা এবং লক্ষাধিক মানুষকে নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দেওয়া এই সরকারের চরম নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, ‘একদিকে ৮/১০ লাখ গার্মেন্ট শ্রমিক চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছে। প্রায় ৩ কোটি লোক নতুন করে দরিদ্রসীমায় নেমে এসেছে। তখন পাটকল শ্রমিক ও ওই অঞ্চলের মানুষদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।’

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন জোনায়েদ সাকি।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, পাট খাতের অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি পুনঃস্থাপন করে রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো চালু করার দাবিতে এ সমাবেশ করে গণসংহতি।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মতোই আচরণ করছে বলে উল্লেখ করেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকল আধুনিকায়ন করার জন্য প্রয়োজন ১২শ’ কোটি টাকা। সেই টাকা না দিয়ে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে আদমজি জুটমিলে। আধুনিকায়নের জন্য তখন দরকার ছিল ২০০ কোটি টাকা। কিন্তু তৎকালীন সরকার বিশ্ব ব্যাংকের পরামার্শে ১৩শ’ কোটি টাকা খরচ করেছিল কারখানা বন্ধ করার জন্য।’

লোকসানের প্রধান কারণ দুর্নীতি। কারখানাগুলো আধুনিকায়ন না করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না হওয়া বলে সমাবেশে জানান সাকি। তিনি বলেন, ‘এই সব সমাধান না করে কারখানা বন্ধ না করা কোনও সমাধান নয়।’

সাকির প্রশ্ন, সরকার কি আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি বন্ধ করতে পেরেছে? প্রতিটি নিয়োগে, প্রতিটি বদলিতে, প্রতিটি পদন্নোতিতে যে দুর্নীতি হয়, তা কি বন্ধ করতে পেরেছে? তিনি বলেন, ‘তাহলে তো সরকারকেই বন্ধ করে দিতে হয়। সুতরাং, দুর্নীতির দোহাই দিয়ে সব দায় শ্রমিকের ওপর চাপানো চলবে না।’

পাটকল বন্ধ করা সরকারের কেবল বোকামিই নয়, আত্মধ্বংসী সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রের তলদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন টন বর্জ্য জমা হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য সারা দুনিয়াকেই প্রায় অচল করে দিয়েছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সারা দুনিয়া যখন পাটপণ্য নিয়ে ভাবছে, তখন আমাদের সরকারগুলো সে ‍গুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এটা শুধুমাত্র বোকামি নয় বরং আত্মধ্বংসী সিদ্ধান্ত। সরকার ২০১০ সালে পাট পণ্য ব্যবহারে প্যাকেজিং আইন করেছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নাই। এই আইন বাস্তবায়ন করলে সারাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাই অনেক বেড়ে যাবে। পাট পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত পাট কলের প্রয়োজন আছে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন— গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, জুলহাসনাইন বাবু, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট জান্নাতুল মারিয়ম তানিয়া। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আলিফ দেওয়ান।

 

/এসটিএস/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ