সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ১৪ দলেরও

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ২২:২৮, জুলাই ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫০, জুলাই ০৩, ২০২০

করোনাভাইরাস
বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ধারাবাহিকতায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ১৪ দলীয় জোটের শরিক নেতাদের। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এই জোটের নেতারা বলছেন, সমন্বয়হীনতা এবং দুর্নীতি সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। একটি জাতীয় ক্রাইসিসের সময় এটি কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। সরকারের উচিত হবে সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে ও দুর্নীতি নির্মূল করে কোভিড মোকাবিলায় পথ চলা।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহল থেকে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই সরকারের স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা একাধিক নির্দেশনায় সমন্বয়হীনতার ছাপ দেখা গেছে। বারবার সিদ্ধান্ত বদলাতেও দেখা যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাঝেও সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পেয়েছে। সর্বশেষ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার লকডাউনের ঘোষণা নিয়েও সমন্বয়ের অভাব দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছে। লকডাউন ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের কর্তৃত্ব ও এখতিয়ার নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন তারা। যার কারণে অন্তত দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত হলেও এখন পর্যন্ত তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

এতদিন রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যত কেবল বিএনপিই সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে এলেও মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাজেট পাসের দিন সংসদে জাতীয় পার্টির এমপিও সরকারের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তোলেন। ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

অবশ্য ওইদিন সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমন্বয়হীনতার অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘সমন্বয় নেই— এই কথাটি সত্য নয়। সম্পূর্ণ নতুন রোগ কোভিড-১৯-এর বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একাধিকবার তাদের সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা পাল্টিয়েছে। যে কারণে আমাদের অনেক সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা রদবদল করতে হয়েছে।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সমন্বয়হীনতা ও দুর্নীতি নিয়ে আগেই কথা বলেছি। সংসদে এ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছি। এ নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। তবে এটুকু বলবো, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও সমন্বয়হীনতায় আমরা কোভিড মোকাবিলায় অনেকখানি পিছিয়ে পড়েছি। সমন্বয়হীনতা, অদক্ষতা এবং দুর্নীতি দূর করা না গেলে, আমরা আরও পিছিয়ে পড়বো। সরকারের উচিত হবে সমন্বয়হীনতা ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে কোভিড মোকাবিলায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করা।’

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘সমন্বয়হীনতা তো অভিযোগ নয়, এটা এখন দৃশ্যমান বিষয়। আর কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়, করোনা মোকাবিলার সবক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর লকডাউন নিয়ে মন্ত্রণালয় আর সিটি করপোরেশনের মধ্যে যা হলো, তাতে সমন্বয়হীনতার তো আর ব্যাখ্যা দরকার হয় না। একটা জাতীয় কমিটি করা হয়েছে, সেই কমিটির কাজ কী, কিছুই বুঝি না।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি তো ছোটখাটো বিষয়, চলছে তো লুটপাট। আর এটা সব সেক্টরেই হচ্ছে। হেলথ সেক্টর যেহেতু এখন কাজ করছে তাদেরটা সামনে আসছে।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের সমন্বয়হীনতা এবং স্বাস্থ্য সেক্টরের দুর্নীতি সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। একটি সর্বত্র আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে আমাদের কাছে এটি কাম্য ছিল না।’

সরকার অনেকটাই প্রশাসননির্ভর হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে মহাজোট সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘কোনও সরকার প্রশাসননির্ভর হয়ে পড়লে তার পক্ষে প্রো-পিপল হওয়া খুবই কঠিন। সেই দৃশ্য আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।’

গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সরকারের প্রচেষ্টার ঘাটতি রয়েছে তা বলবো না, তবে শুরু থেকেই আমরা একটা চূড়ান্ত পর্যায়ের সমন্বয়হীনতা লক্ষ করছি। আমরা ১৪ দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নোটিশ করে রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে একটা জাতীয় কমিটি গঠন করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমলে নেওয়া হয়নি। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে এ ধরনের কমিটি হলে আজ সমন্বয়হীনতার প্রশ্ন উঠতো না।’

/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ