ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি জোটে বাংলাদেশকে চায় না বামদলগুলো

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৫৪, অক্টোবর ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৯, অক্টোবর ১৬, ২০২০




যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্যোগ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস)-তে বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার ওয়াশিংটনের অনুরোধের বিরোধিতা করেছে দেশের কয়েকটি বামধারার রাজনৈতিক দল। দলগুলো মনে করছে, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশের যোগদান হবে সংবিধানবিরোধী ও সরকারের ঘোষিত নীতির বিরোধিতা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে দলগুলো তাদের এ অবস্থানের কথা জানায়।


গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিফেন ই. বিগান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমরা এই অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ বিগান আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আপত্তি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো।
ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীন ভূমিকা বাংলাদেশের মূলনীতির অংশ এবং সংবিধান অনুসারেই বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির নামে এ অঞ্চলে যে সামরিক জোট গড়ে তোলা হচ্ছে তাতে যোগ দিতে পারে না। যোগ দেওয়াটা সরকারের ঘোষিত নীতির বিরোধিতাও হবে।’
বিগানের সফর নিয়ে দলটির ভাষ্য, ‘এটা স্পষ্ট যে আইপিএস-এর জন্য সমর্থন আদায় করতেই তার এই সফর। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন।’
পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে আরও বলা হয় ‘ওবামা প্রশাসনের সময়কালেই যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল, বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা এবং তাতে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে সংশ্লিষ্ট করার নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। সম্প্রতি দেশটি দক্ষিণ চীন সাগরে সৃষ্ট পরিস্থিতি, ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ, কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক জোট গড়ার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অনুসৃত নীতিতে এর ওপর জোর দিচ্ছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সফর করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ কোনও সামরিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার অবকাশ নেই। আমাদের সংবিধানে বলা আছে জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করার কথা। তাই মার্কিন মন্ত্রীর এ ধরনের প্রস্তাব ঔদ্ধত্বের সামিল। যুক্তরাষ্ট্র চীনবিরোধী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও সামরিক জোট হিসেবেই ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি জোট গড়ার পাঁয়তারা করছে।'
বিবৃতিতে সৌদি আরবের সামরিক জোট থেকে সেনা সদস্যদের ফিরিয়ে আনা ও ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি জোটে যোগ দিয়ে বাংলাদেশকে সাম্রাজ‌্যবাদী যুদ্ধের চারণভূমিতে পরিণত না করার জোর দাবি জানান খালেকুজ্জামান।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের আইপিএস জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী সামরিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার অবকাশ নেই। এ ধরনের জোটে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক।’
সাইফুল হক উল্লেখ করেন, ‘ইতিমধ্যে মার্কিন মদদপুষ্ট সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটে বাংলাদেশকে অংশীদার করে দেশের জোট নিরপেক্ষ নীতির লংঘন করা হয়েছে।’


/এসটিএস/এফএ/

লাইভ

টপ
X