সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে হবে: নূর হোসাইন কাসেমী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫৪, অক্টোবর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২০, অক্টোবর ২২, ২০২০

বিএসএফ নির্বিচারে বাংলাদেশিদের হত্যা করলেও  সরকার মৌখিকভাবে এর কড়া প্রতিবাদ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী। একইসঙ্গে সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক হত্যা বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপসকামিতা চলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন নূর হোসাইন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পুলিশ হেফাজত ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে সমমনা ইসলামি দলগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নূর হোসাইন বলেন, ‘এটা গভীর বেদনাদায়ক, লজ্জার ও নিন্দনীয়। সরকারের দুর্বল জনসমর্থন এবং নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই বিএসএফ এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে। ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে।’

জমিয়তের মহাসচিব আরও বলেন, ‘শুধু আইন করলেই হবে না, ধর্ষণ ও জেনা-ব্যভিচার বন্ধ করতে হলে এগুলোর উৎস বন্ধ করতে হবে। গোড়া রেখে ডাল-পালা কাটলে বৃক্ষ যেমন সমূলে ধ্বংস করা যায় না, ধর্ষণের উৎস বন্ধ না করে মৃত্যুদণ্ড  আইন দিয়ে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না।’

পুলিশি হেফাজতে সিলেটের রায়হান হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে নূর হোসাইন বলেন, ‘হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে জনগণকে শান্ত করা যাবে না। এটা যে পুলিশি হত্যাকাণ্ড ছিল, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। সুতরাং, দোষী পুলিশ সদস্যদের কঠিন শাস্তি কার্যকর করতে হবে।’

ইসলামি আন্দোলনের আমির শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী বলেন, ‘পুলিশি হেফাজতে মানুষ হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সিলেটের রায়হান হত্যা পুলিশের ভাবমূর্তিকে তলানিতে নিয়ে গেছে। পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে ও ভঙ্গুর ভাবমূর্তি রক্ষায় সরকারের উচিত দোষী পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে তা দ্রুত কার্যকর করা।’

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, ‘আজকে সারাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে পর্নোগ্রাফি। এই পর্নোগ্রাফি অবিলম্বে কঠোর হাতে বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি, দেহ-ব্যবসা, অশ্লীলতা অবিলম্বে বন্ধ না করলে ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। তাই আমরা বলি, ধর্ষণ বন্ধ করতে চান নাকি বিচার কার্যকর করতে চান। যদি বাস্তবিকই ধর্ষণ বন্ধ করতে চান, তাহলে সবার আগে পর্নোগ্রাফি বন্ধ করতে হবে। তার সঙ্গে মাদকের ব্যবসাও মহামারি আকার ধারণ করেছে। এটাকেও বন্ধ করতে হবে।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে পাগলা ঘোড়ার মতো লাগামহীনভাবে ছুটে চলছে, তাতে দেশে কোনও সরকার আছে বলে মনে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লুটপাট করছে। সরকার যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার পতনের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের  সহ-সভাপতি আব্দুর রব ইউসুফী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির মাওলানা ড. মোহাম্মদ ঈশা সাহেদী, মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, বাংলাদেশ ফরায়েজি আন্দোলনের আমির মাওলানা আব্দুল্লাহ হাসান প্রমুখ।

/সিএ/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ