গুলশানে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। পৃথক বিবৃতিতে তারা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একাংশের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক যৌথ বিবৃতিতে গুলশানের পৈশাচিকভাবে হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, হত্যাকারীদের আক্রমণের ধরনই প্রমাণ করেছে, হত্যা করে তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চেয়েছিল।
তারা বলেন, এ হামলা জঙ্গিবাদীদের ঘৃণ্য বর্বর মানসিকতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। এ হামলা বাংলাদেশসহ বিশ্ব শান্তি ও গণতন্ত্রের ওপর হামলা। গণতন্ত্র-উন্নয়ন-শান্তির ধারাকে ধ্বংস করে ভীতি ও আতঙ্কের মধ্যযুগীয় বর্বরতা কয়েমই এ ঘৃণ্য জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য।
জাসদের এই দুই নেতা জঙ্গিগোষ্ঠীর বর্বর হত্যা-খুনের রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের পাশে থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির এক জরুরি সভায় বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নেতারা বলেন, একের পর এক গুপ্তহত্যা দেশি-বিদেশি চক্রান্তেরই অংশ। নেতারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সব মহল এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় নেতারা দেশের এই সংকটকালে অন্যান্য গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল দল, গণসংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে গণজাগরণ গড়ে তোলার কাজকে অগ্রসর করে নেওয়ার জন্য সিপিবি’র কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এক বিবৃতিতে গুলশান ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, গুলশানের রেস্তোরাঁয় সংঘটিত জঙ্গি আক্রমণ ও জিম্মি করার ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের রক্ষায় গুপ্ত হত্যা, টার্গেট কিলিংয়ের ধারাবাহিকতায় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের আরেকটি বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। জঙ্গি গোষ্ঠীর এই আক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সশস্ত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে সরকার ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।
নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আক্রমণের যে নতুন মাত্রা ও টার্গেট করেছে, তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সর্বোচ্চ উদ্যোগ আমাদের সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে।
ওয়াকার্স পার্টির এই দুই নেতা জঙ্গিগোষ্ঠীর এই বর্বর আক্রমণ এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশের সব প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
/ইএইচএস/এমএনএইচ/







