মুক্তিযুদ্ধকালীন বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য জেড ফোর্সের প্রধান জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের তৎপরতাকে অবিবেচনাপ্রসূত ও হীনমন্যতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিভেদ-বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং রাজনীতিতে বিদ্যমান বিরোধ ও বৈরিতাকে আরও উসকে দেবে। এ পরিস্থিতি দেশের বিদ্যমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরব ও মর্যাদাকে খাটো করবে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য যদি বীরউত্তমসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব বা পদবি বাতিল করতে হয়, তা অনেক অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের জন্ম দেবে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তখনও প্রতিহিংসামূলক এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে, তা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।’
বিবৃতিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা যায়নি এবং অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে পরিপূর্ণ সম্মানও জানানো যায়নি। স্বাধীনতা পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, জনগণই তাদের ব্যাপারে মূল্যায়ন করবে। বেআইনি বা অন্যায় কাজের সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ কারণে মুক্তিযুদ্ধকালীন তাদের সাহসী ভূমিকা মুছে ফেলার সুযোগ নেই। জাতি হিসেবে তা আমাদের জন্য দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করবে না।’ রাজনৈতিক বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব বাতিলের তৎপরতা থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।








