লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেছেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বে ২০১৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট ছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন করে। বিএনপি দুই মঞ্চেই কালোকোট পরিহিত অনেকেই মুজিববন্দনা করেছেন। বুকে পাথর চাপা দিয়ে মনের কষ্ট মনে রেখে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক স্বার্থে আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা ফলপ্রসূ হয়নি।’
বুধবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্বাধীনতা ফোরাম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এলডিপির নেতা (একাংশ) শাহাদাত হোসেন সেলিম এসব কথা বলেন। এ সময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ৭ নভেম্বর বিএনপির দলীয় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির উদ্দেশে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ভবিষ্যতে আন্দোলনের প্রশ্নে, নির্বাচনের প্রশ্নে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামিক মূল্যবোধসম্পন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। সব দল ও মতকে একমঞ্চে এনে, এককাতারে এসে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই।’
‘পৃথিবীকে কোনও স্বৈরশাসক আন্দোলন ছাড়া পদত্যাগ করেনি,’ বলে আলোচনায় উল্লেখ করেন সেলিম।
সেলিম দাবি করেন, জিয়াউর রহমানের সাড়ে তিন বছরের শাসনামল সাধনা করলেও আওয়ামী লীগ মুছে ফেলতে পারবে না।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান অবিচারের শিকার হয়েছেন। যেসব অফিসাররা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছেন, তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন সবচেয়ে সিনিয়র। সবচেয়ে সিনিয়র ব্যক্তিকে সেনাপ্রধান না করে মেরুদণ্ডহীন ব্যক্তিকে সেনাপ্রধান করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর সাংবিধানিক সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখার জন্য তিনি সব সময় কাজ করে গেছেন।’
সেলিম যোগ করেন, এমনকি ১৫ আগস্টের পরও জিয়াউর রহমান সাংবিধানিক সরকারের প্রতি অনুগত ছিলেন। ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি বন্দি ছিলেন। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পরে তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। সাড়ে তিন বছর সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।’
১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন দেশে আসেননি বলে প্রশ্ন রাখেন এলডিপি মহাসচিব সেলিম। তার প্রশ্ন, সেদিন তো বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নামে কোনও মামলা ছিল না।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অনেক মামলা চলমান। সাজানো মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজা দেওয়ার পর তারেক রহমানের বক্তব্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমন অবস্থায় তারেক রহমানকে উসকানি দিয়ে দেশে এনে...ফিলিপাইনে যেমন বিরোধী দলীয়নেতাকে গুলি করা হত্যা করা হয়েছে। এই সরকারও এমন অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়।’
সেলিম দাবি করেন, তারেক রহমান সময়মত দেশে ফিরবেন। যেদিন ফিরবেন, সেদিন দেশের অনেকেই দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।









