সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরকে উভয় দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেছে ইসলামী ঐক্যজোট। দলটির চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী ও মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেছেন, এতে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
শুক্রবার (১৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী ঐক্যজোটের শীর্ষ দুই নেতা এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম প্রধান দেশ। দুই দেশের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও আগে থেকেই এক ধরনের আত্মিক যোগাযোগ রয়েছে। বিভিন্ন দুর্যোগে সৌদি সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের ২৫ লাখ শ্রমিক সৌদি আরবে কর্মরত। আমরা মনে করি, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর উভয় দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
বিবৃতি তারা আরও বলেন, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি হয়েছে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা অন্য কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য ভিসা ক্লিয়ারেন্সের শতভাগ কার্যক্রম ঢাকায় সম্পন্ন করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি কেরানীগঞ্জের বসিলায় আরবি ভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, যা বাংলাদেশে আরবি ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, সৌদি আরব একটি প্রভাবশালী আরব রাষ্ট্র। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মভূমি, পবিত্র কাবা শরীফ ও মসজিদে নববী সেখানে হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছেও রাষ্ট্রটির মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বেশি। তাই বাংলাদেশের উচিৎ পাশ্চাত্য রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া। এতে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেরও বৃহৎ পরিবেশ তৈরি হবে।








