সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিএনপি। অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠনগুলোও সহযোগিতা করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অবিলম্বে বন্যার্তদের সহযোগিতা এবং ত্রাণ সহায়তা বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুন) বিকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্যার্তদের পূর্ণ সহায়তা দিতে সরকার এখনও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তা দুর্যোগের তুলনায় অপ্রতুল।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সাধ্যমতো সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যার্তদের উদ্ধার, খাদ্য সহায়তা দিতে আমরা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে যৌথ সভা করবে বিএনপি। দলের "ত্রাণ বিতরণ কমিটি" এ সভা করবে। আগামীকাল রবিবার (১৯ জুন) বিকাল ৪টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের অফিসে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সভাপতিত্ব করবেন স্থায়ী কমিটি সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ জানান, তারা সাংগঠনিকভাবে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শনিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, লালমনিরহাট জেলায় ভয়াবহ বন্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বন্যাদুর্গত মানুষেরা অবর্ণনীয় কষ্টে আছেন। সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংগঠন এগিয়ে এলেও বন্যার্তদের জন্য আশ্রয়, খাবার, ওষুধের ব্যবস্থা আরও বাড়াতে হবে।
বানভাসি মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণফোরাম (একাংশ) সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ বন্যায় কবলিত অঞ্চলের লাখ লাখ পরিবার অবর্ণনীয় দুর্দশায় নিপতিত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। সর্বস্ব হারিয়ে তারা মহাবিপদে আছেন। অধিকাংশ পরিবারের কাছে এখনও খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছেনি।’
সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বন্যাকবলিত সব জেলা শাখা ও এর আওতাধীন সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের (যারা বন্যাকবলিত নয়) নিজ সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। একইসঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে শিশু-বৃদ্ধ-নারী ও প্রতিবন্ধীদের বিশেষ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার তাগিদ দেন। জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকার ও সামর্থ্যবানদের প্রতি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।









