নারায়ণগঞ্জে যেভাবে মিছিলে গুলি চালানো হয়েছে, তা শুধু হত্যার উদ্দেশ্যেই বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘একেবারে পয়েন্ট রেঞ্জ থেকে গুলি করে মারা হয়েছে। এভাবে হত্যা করে মানুষের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের টাঙ্গাইল জেলার ১১ আইনজীবীসহ অন্যান্যদের নাগরিক ঐক্যে যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একটা স্লোগান ছিল—লাঠি, গুলি, টিয়ার গ্যাস; জবাব দেবে বাংলাদেশ।’
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দল হিসেবে ছোট, কিন্তু আমাদের হৃদয় বড়, আমাদের দৃষ্টি অনেক বেশি প্রসারিত। সেই জায়গা থেকে বলেছি, এই সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী।’ তাই নেতা-কর্মীদের বিশ্বাস না হারানোর আহ্বান জানান তিনি।
ডাকসুর সাবেক ভিপি মান্না বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সোনার বাংলার কথা বলেছিল, তারা সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে সোনার বাংলা তামা হয়ে গেছে। আজকে বাংলাদেশের প্রধান সংকট হল মানুষ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। আজ আওয়ামী লীগকে কেউ ভালবাসে না। একটা দল, যেটা ১ নম্বর দল, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল, কীভাবে নিঃশেষ হয়ে গেল!’
একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচন হতে পারে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘এ সরকারের অধীনে সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন বর্জন করতে হবে। নাগরিক ঐক্যের প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমশ বাড়ছে। তাই অনেকে আমাদের দলে যোগদানে আগ্রহ প্রকাশ করছে। আমরা এই স্বৈরাচারীর ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছি এবং লড়বো। আমরা চাই এ লড়াইয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাই শামিল হোক।’
মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মমিনুল ইসলাম ও জিন্নুর চৌধুরী দীপু প্রমুখ।
পরে তিনি ১১ আইনজীবীর নাগরিক ঐক্যে যোগদান উপলক্ষে নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। যোগদানকৃতরা হলেন- টাঙ্গাইল জজ কোর্টের সাবেক এপিপি অ্যাড. বজলুর রহমান, টাঙ্গাইল বার কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি অ্যাড. আরফান আলী মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন ও অ্যাড. ফজলুর রহমান, অ্যাড. নারগিস আক্তার, আসাদুজ্জামান খান আয়ুব, টাঙ্গাইল সরকারি সা'দত কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিন্না মিয়া, অ্যাড. মাওলানা ইব্রাহীম জিহাদী, বাস মালিক সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী, মাওলানা আবদুল আজিজ, মো. নজরুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান।









