শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা দাবির আন্দোলন আর ভোটাধিকারের আন্দোলনকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে ভোট আদায় হলে আপনাদের (শ্রমিক) যথাযথ মজুরি আদায় হবে, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার হবে।’ তিনি পাঁচ বছর পর নয়, পণ্যের বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবছর ইনক্রিমেন্ট দেওয়ারও দাবি তোলেন।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মজুরি ঘোষণার দাবিতে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। সমাবেশে ‘নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক আবহাওয়ায় শ্রমিকদের বিপদগ্রস্ত’ না করে অবিলম্বে ২৫ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে জোনায়েদ সাকি প্রতি বছর সমন্বয় কের ইনক্রিমেন্টের দাবি তুলে বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে তিন বছরের মাথায় মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয় ও শ্রম আইন বদলাতে হবে।
সরকার তার পাঁচ বছর মেয়াদের সাড়ে চার বছরের মাথায় এসে একটি মজুরি কমিশন গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে ত্রি-পক্ষীয় কমিশন। আমরা সবসময় দেখি শ্রমিকদের প্রতিনিধি কীভাবে নির্বাচন করা হয়। শ্রমিকদের প্রতিনিধি যখন নির্বাচিত হন, তখন সেটা কতটা শ্রমিকদের প্রতিনিধি থাকেন আর সরকারি দলে আওতার মধ্যে লোকেরা থাকেন, সেটা আমরা আমাদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে জানি।’
শ্রমিকদের ২৫ হাজার টাকা মজুরির সংগ্রামকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা, আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর, চট্টগ্রাম সমস্ত এলাকার শ্রমিকদের রাজপথে নামতে হবে। মনে রাখবেন, শ্রমিকরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, পুলিশ কিংবা কোনও গুন্ডা বাহিনী আপনাদের দমাতে পারবে না। ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে যারাই সরকারে আসবে, তারা যদি শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের দাবি না মানে, অধিকার প্রতিষ্ঠা না করে আর ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না। সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি গড়ে তুলুন, সংগঠন গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন, ঐক্যবদ্ধ না হলে, কোনো অধিকার আদায় হবে না। রাজপথ দখল নিন, আপনারাই (শ্রমিক) বাংলাদেশে রাজত্ব করবেন।’
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, গত ২২ তারিখে শ্রমিকদের সব আশা-প্রত্যাশাকে ভুলুণ্ঠিত করে কীভাবে মালিকপক্ষ মাত্র ১০ হাজার ৪০০ টাকা মজুরি প্রস্তাব করেছে। আপনারা সবাই জানেন আজকে বাজারে কী অবস্থা। শ্রমিকরা যখন কারখানা থেকে বাসায় ফেরে তাদের পক্ষে ডিম, মাছ, মাংস কেনা সম্ভব হয় না। শ্রমিকরা যখন বাড়ি ফেরে তখন তাদের হাতে থাকে শাক-সবজি। শ্রমিকদের কোনও পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। যখন শ্রমিকরা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ১০ হাজার ৪০০ টাকার প্রস্তাব শ্রমিকদের সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। আমরা এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করছি। এটি মালিকদের স্বার্থের প্রস্তাব।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিফ দেওয়ান, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সহ-সভাপ্রধান অঞ্জন দাশ প্রমুখ। সমাবেশ শেষে তারা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মিছিল করে পল্টন মোড়ে গিয়ে তা শেষ করে।









